বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১ ৩০ চৈত্র ১৪২৭

২০২০ কেমন গেল টোয়েন্টি টোয়েন্টি
করোনায়ও ভেঙে পড়েনি আমাদের অর্থনীতি
জোনায়েদ মানসুর
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০, ৯:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনায়ও ভেঙে পড়েনি আমাদের অর্থনীতি

করোনায়ও ভেঙে পড়েনি আমাদের অর্থনীতি

মহামারি করোনাভাইরাসে ২০২০ সাল যেভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছে; তা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। এ মহামারিতে ডলার, তেল, কয়লা, স্বর্ণ ও রৌপ্যে এবং পোশাক খাতে দাম ওঠা-নামা করায় বৈশ্বিক অর্থনীতি এক প্রকার তছনছ হয়ে গেছে। বাংলাদেশে করোনার ধাক্কা এসেছে। তবে সেটা সামাল দিতে সরকার শুরু থেকেই প্রস্তুতি নেয়। ফলে যেমন ধাক্কা লাগার কথা ছিল, তেমন লাগেনি। তারপরও যেসব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় চালিয়েছে যাচ্ছে সরকার। অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০২০ সালে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েনি, তাদের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে; ঘুরে দাড়াবেই। 

২০২০ সালে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর প্যাকেজ ঘোষণা, অব্যাহত রেমিট্যান্স, রিজার্ভ, দারিদ্র্য কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার, বাজেট ঘাটতি এবং সরকারি ঋণ বা জিডিপি অনুপাত এর অবস্থান সন্তোষজনক ছিল, সরকারি সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিত্যপণ্যে বাজার দাম ওঠা-নামায় টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রিসহ সব কিছুই ছিল সন্তোষজনক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসও বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। মাথাপিছু প্রবৃদ্ধির বিবেচনায়ও দেশটির অবস্থান স্বস্তির। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশের রফতানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হলেও এখনো বড় আঘাত লাগেনি। গত ২৩ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, তাদের অর্থনীতি অনেক অনেক বেশি ভলো অবস্থানে আছে। তারা এখনও সব সূচকে প্রবৃদ্ধি রক্ষা করছেন। তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির গড় হার ধরা হয়েছিল ১০ দশমিক ২০ শতাংশ ছিল, গত ৫ অর্থবছরে সেটা এ বছর নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেখছি ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। সেখানে নভেম্বর পর্যন্ত ভালো দেখাচ্ছে। তবে করোনার জন্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আইএমএফসহ সব দাতা সংস্থা বাংলাদেশ সম্পর্কে পূর্বাভাস দিচ্ছে, তাতে একটি বার্তা পরিষ্কার, দেশের অর্থনীতি ইতিবাচক ধারায় আছে। এটি আশাবাদী হওয়ার মতো। পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সঠিক পথেই আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর অর্থনীতিবিদ ইব্রাহিম খালেদ বলেন, মানুষ বেঁচে থাকার জন্যই মহামারি মোকাবেলা করছে। আর বাঁচার জন্যই অর্থনীতিকে গতিশীল রাখছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসিএটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিল্পোদ্যোক্তা মো. মোশাররফ হোসেন স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চলতি বছর অর্থনীতিতে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। করোনায় পোশাক খাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য শিল্পেরও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সফলতা বলতে পদ্মা সেতুর বিজয়, অর্থনৈতিক অঞ্চলে অগ্রগতি, আইটি খাত চাঙ্গা হয়েছে, রেমিট্যান্স বাড়ছে, রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলারে উন্নতি, মেট্রোরেলের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। 

সঞ্চয়পত্র : চলতি বছরের শুরুতে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভালোই অবস্থান ছিল। এ অবস্থানে করোনার ধাক্কা লাগে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোট ৭ হাজার ৩০৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি হয় ৬ হাজার ৭৭২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আর মার্চে মোট ৫ হাজার ৬২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। মার্চে নিট বিক্রি হয় ১ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। এপ্রিল মাসে নিট বিক্রি ছিল ৬২১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। মে মাসে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪৩০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। জুনে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৪১৭ কোটি টাকার। জুলাইয়ে ৩ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা, আগস্টে ৩ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে ৪ হাজার ২০৭ কোটি টাকা এবং সর্বশেষ গত অক্টোবর মাসে ৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিক্রি হয়েছে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ১৫ হাজার ৬৪২ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় তিন গুণ বেশি। 

সরকারের ব্যাংক ঋণ: চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের শুধু মে মাসেই সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৬ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। আর জুলাই-অক্টোবর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ৯৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর শেষে মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে ছিল এক লাখ ৭৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। 

পুঁজিবাজার : মহামারির আঘাতে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও বিদায়ী বছরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। করোনার কারণে পুঁজিবাজার প্রায় ৬৩ দিন বন্ধ ছিল; বিনিয়োগকারীদের টাকা আটকে গিয়েছিল, কেউ চাইলেও টাকা বের করতে পারছিলেন না।’ এর মধ্যেও দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক চলতি বছর ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৭৪ পয়েন্ট বা ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ সালের শেষ দিন ডিএসইর মূল সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৪ হাজার ৪৫৩ পয়েন্ট। ২৪ ডিসেম্বর তা বেড়ে ৫ হাজার ২১৮ পয়েন্টে উঠেছে। লেনদেন হচ্ছে হাজার কোটি টাকার ঘরে। বিএসইসি ২০২০ সালে প্রায় ১৫টি আইপিওর অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে পুঁজিবাজারে বেশ কিছু টাকা বিনিয়োগ এসেছে। শর্ত পূরণ করতে না পারায় বেশ কিছু আইপিও বাতিল করেছে বিএসইসি, যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজে বিনিয়োগ থেকে ‘বেঁচে যায়’। বিনিয়োগকারীদের আটকে থাকা অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয় বিএসইসি। কমিশনের পক্ষ থেকে বিলম্বিত হলেও বহুল প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের ফলে আসছে বছর নিয়েও আশাবাদী পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে ডিএসই পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘২০২১ সালে দেশের পুঁজিবাজার ২০২০ সালের চেয়ে ভালো করবে। বন্ড মার্কেট ভালো হবে, এসএমই বোর্ড চালু হবে। ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে।’

রিজার্ভ : দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ এসেছে এ বছর। ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে এ রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রবাস আয় হয়েছে ১৮ হাজার ২০৫ মিলিয়ন ডলার। 

রেমিট্যান্স: বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত হচ্ছে মজবুত হচ্ছে রেমিট্যান্সে।  দেশের জিডিপিতে এই রেমিটেন্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো। বিদায়ী বছরে সে রেমিট্যান্সে করোনাভাইরাস মহামারী আচড়ে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, এপ্রিলে রেমিট্যান্স ১০৮ কোটি ১০ লাখ ডলার,  মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ (১.৫) বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের ২ দিন বাকী থাকতেই গত ২৮ জুন পর্যন্ত ১৮ বিলিয়ন (এক হাজার ৮০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। জুলাই-নভেম্বর (পাঁচ মাসে) রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৯০ কোটি ৪৪ লাখ (১০.৯০ বিলিয়ন) ডলার। 

মানব উন্নয়ন সূচক : চলতি বছরে মানব উন্নয়ন সূচকে গত বছরের তুলনায় দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১৩৩। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ২০২০ সালের দ্য হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পঞ্চম অবস্থানে আছে। তবে পরিবেশের প্রভাবজনিত সমন্বিত মানব উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী আরও ৯ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২১ ডিসেম্বর ইউএনডিপির বাংলাদেশে প্রকাশিত ‘মানব উন্নয়ন সমীক্ষা-২০২০’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মানব উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন অসাধারণ। ১৯৯০ হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত, মানব উন্নয়ন সূচক শতকরা ৬০ দশমিক ৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সূচকের মান মধ্যম সারির দেশের চেয়ে বেশি ছিল।

মাথাপিছু আয় : বিদায়ী অর্থবছর (২০১৯-২০) শেষে দেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪ ডলার। তার আগের অর্থবছরে মাথাপিছু গড় আয় ছিল ১ হাজার ৯০৯ ডলার। অর্থাৎ, দেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় এক বছরের ব্যবধানে ১৫৫ ডলার বেড়েছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় মানুষের মাথাপিছু আয় বছরে দাঁড়াচ্ছে গড়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, মাসে গড় আয় প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ টাকার মতো। এছাড়া গত ২১ ডিসেম্বর ইউএনডিপির বাংলাদেশে প্রকাশিত ‘মানব উন্নয়ন সমীক্ষা-২০২০’ প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে, ১৯৯০ হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মাথাপিছু আয় বেড়েছে শতকরা প্রায় ২২০.১ শতাংশ। 

 সামাজিক সূচক : চলতি বছর সামাজিক ক্ষেত্রের বিভিন্ন সূচকেও সাধিত হয়েছে ঈর্ষনীয় অগ্রগতি হয়েছে। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করা, দারিদ্র্য কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ ঋণ ধারণ ক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছে।

প্রণোদনা প্যাকেজ : মহামারির প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী লকডাউন ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে এ সংকট মোকাবিলা ও অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে ২১ প্যাকেজে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর কারণে বাংলাদেশ কোভিড-১৯ এর অর্থনৈতিক প্রতিঘাত বেশ ভালোভাবেই মোকাবিলা করতে পেরেছে সরকার। যা দেশ ও বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।  এছাড়া, এ বছরই সরকার আরও প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

জিডিপি : দেশের অর্থনীতি মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭.২৮, ৭.৮৬, ৮.১৫ শতাংশের ধারাবাহিকতায় ২০২০ সাল শুরু করেছিল। কিন্তু বরোনাভাইরাসে কিছুটা ধাক্কা লাগে। তবে যতটা কমার আশঙ্কা করা হয়েছে ততটা কমেনি। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.২৪ শতাংশে (সাময়িক হিসাব) দাঁড়িয়েছে। যা ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির রেকর্ড ৮.১৫ শতাংশ হয়। অর্থবিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মূল্যস্ফীতি : চলতি বছরের নভেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৫২ ভাগ, যা তার আগের মাসে অর্থাৎ অক্টোবরে ছিল ৬ দশমিক ৪৪ ভাগ। গত বছরের নভেম্বরের তুলনায়ও এ বছরের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি কমেছে। গতবছর নভেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ০৫ ভাগ।

বুধবার (২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সূত্রে এই তথ্য জানায়। সূত্র জানায়, নভেম্বরে খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত উপ-খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে যথাক্রমে শতকরা ৬ দশমিক ০১ ও ৪ দশমিক ৬৫ ভাগ, যা অক্টোবরে ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৭৩ ও ৪ দশমিক ৬২ ভাগ। এদিকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চলন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার নিরূপণ করা হয়েছে শতকরা ৫ দশমিক ৭৩ ভাগ। তার আগের বছরের একই সময় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল শতকরা ৫ দশমিক ৫৬ ভাগ। এদিকে মূল্যস্ফীতি ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরের ৭.৬ শতাংশ থেকে কমে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৫.৬৫শতাংশ (১২ মাসের গড়) হয়েছে। বাজেট ঘাটতি প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিাডপি’র ৫ শতাংশের নিচে সীমিত ছিল; যদিও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে করোনার প্রভাবে এ ঘাটতি সামান্য বেশি ৫.২৩ শতাংশ হয়েছে। ঋণ বা জিডিপি অনুপাত ২০০০-২০০৯ অর্থবছরের ৩৯.৩ শতাংশ থেকে ক্রমশ কমে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জিডিপি’র ৩৫.৮ শতাংশে (সাময়িক হিসাব অনুযায়ী) নেমে এসেছে।

রফতানি আয় : ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রফতানি আয় হয়েছে ৪০,৫৩৫ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু কোভিড-১৯ এর প্রভাবে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৬.৯ শতাংশ কমে তা ৩৩,৬৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারে মোট রফতানি করেছে ১ হাজার ৫৯২ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের পণ্য। পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৭৭ কোটি ৭১ লাখ ডলারের পণ্য। করোনার এই ক্রান্তিকালেও রফতানি না কমে যাওয়াকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রফতানিকারকরা।

আমাদানি ব্যয় :  ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে আমাদানি ব্যয় ৮.৬ শতাংশ কমে তা ৫৪ হাজার ৭৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৫৯ হাজার ৯১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। চলতি বছরের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) আমদানি হয়েছে এক হাজার ১৭৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। আগের বছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি হয়েছিল এক হাজার ৩২৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য। জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার ৬৫১ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে আগের বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগস্টে আমদানি ব্যয় কমেছে ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আর জুলাইতে কমেছে ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।