বুধবার ১২ মে ২০২১ ২৯ বৈশাখ ১৪২৮

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
দিনবদলের অঙ্গীকারে মহাজোটের মহাবিজয়
মোস্তাফিজ বুলবুল
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০, ৯:২৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

দিনবদলের অঙ্গীকারে মহাজোটের মহাবিজয়

দিনবদলের অঙ্গীকারে মহাজোটের মহাবিজয়

নতুন বছরে নতুন অধ্যায়ে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশের রাজনীতি। গত ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বহু প্রত্যাশিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে পুরুষের পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণও ছিলো স্বতঃস্ফূর্ত।ওই নির্বাচনেই প্রথম নারী ভোটারের সংখ্যা ছিলো পুরুষের চেয়ে বেশি। ওই নির্বাচনে প্রথম নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল পুরুষের চেয়ে বেশি।সেই নির্বাচনে প্রথম নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল পুরুষের চেয়ে বেশি। অন্যবারের তুলনায় ওইবার নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। মোট ৮ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৪ জন ভোটারের মধ্যে নারীর সংখ্যা ৪ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৮।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন সর্বস্তরের ভোটাররা। উৎসবমুখর পরিবেশে ঘণ্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পুরুষের পাশাপাশি ভোট দিয়েছেন তরুণী থেকে শুরু করে বৃদ্ধা পর্যন্ত। অতীতের যে কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যেমন নারীদের সফল অংশগ্রহণ ছিলো তেমনি এবারের নির্বাচনেও। তবে ওইবার সার্বিকভাবে নারীর অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মোট ৮ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৪ জন ভোটারের মধ্যে নারীর সংখ্যা ৪ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৮। পুরুষ ভোটার ৩ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৫৪৯ জন। অন্যবারের চেয়ে এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যাও ছিল বেশি। নারীর অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিজ নিজ দলের মেনিফেস্টো নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন ৫০ জনেরও বেশি নারী। ভোটের লড়াইয়ে ২২টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন প্রধান দুই দলের নেত্রী শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৮ জন। তাদের মধ্যে অনেক নবীন নারী প্রার্থীই বড় বড় নেতাদের সঙ্গে লড়ে জিতেছেন। নির্বাচনে নারীর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক চেতনতারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন সবাই। তাদের মতে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের জনগণ বুঝতে পেরেছে একমাত্র গণতন্ত্রের পথেই দেশের বিদ্যমান সমস্যা থেকে উত্তোরণ সম্ভব।

নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন মহাজোট। দিন বদলের প্রতিশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টায় ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলসহ সকলের সহযোগিতা চাইলেন তিনি। নতুন সরকারের কাছে নারীদের প্রত্যাশাও ছিল অনেক। ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ চায় তারা। সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন তাদের চোখে। তবে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কেন্দ্র জাতীয় সংসদে নারীদের উপস্থিতি কি সন্তোষজনক নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রধান আয়শা খানম। ক্ষমতার মূলকেন্দ্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতা প্রয়োজন- এমনটাই মনে করেন তিনি। আইন ও সালিশকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামালের প্রত্যাশা, নারীর পূর্ণ অধিকার বাস্তবায়নে ৯৭ সালের নারী নীতি পুনর্বহাল করবে নতুন সরকার।নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর শেখ হাসিনা বললেন, এই বিজয় দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সুশাসনের বিজয়, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির বিজয়, অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের বিজয়। একইসঙ্গে মিডিয়ার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি।

মহাজোটকে নির্বাচিত করায় জনগণকে বিশেষ করে মা-বোনদের অভিনন্দন জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ- দিনবদলের পক্ষে, আওয়ামী লীগের পক্ষে, নৌকার পক্ষে যে রায় দিয়েছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই বিজয় শুধু আওয়ামী লীগ বা মহাজোটের নয়। এই বিজয় সমগ্র জাতির, এই বিজয় গণতন্ত্রের। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, সীমিত আয়ের মানুষ যারা ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। নির্বাচন পরবর্তী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন বিজয়ী শেখ হাসিনা। যারা আওয়ামী লীগ বা মহাজোটে ভোট দেননি, তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তবে সেটা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকার হবে সকলের সরকার। তাই সবার সহযোগিতা চাই।নতুন ভোটারদের অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নতুন প্রজন্ম দেশকে নতুন রাজনৈতিক চেতনায় এগিয়ে নিয়ে যাবে। আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি হিসেবে দেশকে গড়ে তুলবে।
সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশের মানুষের জন্যে একসঙ্গে কাজ করি। বিরোধী দলকে আমরা সংখ্যা দিয়ে বিচার করব না। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার। সংসদে ডেপুটি স্পীকার ও সংখ্যানুপাতিকহারে সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের পদও বিরোধী দলকে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। এর আগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করেন। খালেদা জিয়া দাবি করেন, ভোট মহাজালিয়াতির এমন দৃষ্টান্ত অতীতে নেই। এই প্রহসনের নির্বাচন বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে শেখ হাসিনা এই মন্তব্যকে তেমন একটা আমলে নেননি। বরং জানিয়েছেন, সাধারণত হারলে লোকজন এ ধরনের কথা বলে। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা দাবি করেন, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ছিল দুর্নীতিমুক্ত। এবারও একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ-ব্যবস্থা মানুষকে উপহার দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এসময় শেখ হাসিনার সঙ্গে তার পরিবার বর্গের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মহাজোটের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। সংবাদ সম্মেলনে মহাজোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকলেও জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দেখা যায়নি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দারিদ্র্য দূর করা, দুর্বৃত্তায়ন রোধ হবে নির্বাচিত সরকারের প্রথম কাজ- শেখ হাসিনার এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন সুশীল সমাজ। তবে তা শুধু কথায় নয়, সরকার গঠনের পরপরই কার্যকর করার পরিবেশ দেখতে চায় সাধারণ মানুষ। সততা এবং আদর্শের রাজনীতির চর্চা থাকতে হবে নেতাকর্মীদের মধ্যে বললেন সাবেক উপদেষ্টা এ এস এম শাহজাহান।

প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেবেন তার কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য শেখ হাসিনার বক্তব্যে না থাকলেও সংসদ কার্যকর করার বিষয়ে তার আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন আরেক সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দীন।অনেকে প্রত্যাশা পূরণের বড়ো দায়িত্ব দিয়ে তিন চতুর্থাংশ আসনে জনগণ নির্বাচিত করেছে মহাজোটকে। তাই সংবেদনশীল এবং স্বচ্ছ রাজনীতি চর্চা ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই। আর এক্ষেত্রে মিডিয়া, সুশীল সমাজ এবং সচেতন জনগণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচিত সরকারকে- আশাবাদ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের।

প্রসঙ্গত, ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ব্যবধানে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। বেসরকারী ফলাফলে ২৯৯ টি আসনের মধ্যে মহাজোট জিতেছে ২৬২ টি আসনে। চারদলীয় জোট পয়েছে ৩২টি আসন এবং অন্যান্য দল ৫টি। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।