মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১ ৫ মাঘ ১৪২৭

মোংলা বন্দরে ২৫ কোটি টাকায় বানানো হচ্ছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১:২৮ পিএম আপডেট: ০১.১২.২০২০ ১:৩৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলার আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও বন্দরে আসা জাহাজের লোকজনের পানযোগ্য পানির চাহিদা মেটাতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট।

নির্মাণাধীন এ প্লান্ট সম্পন্ন হলে প্রতিদিন ৫০ লাখ লিটার সুপেয় পানি সরবরাহ করা যাবে বন্দর এলাকায়। এর ফলে মোংলা বন্দর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট এলাকার সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ হবে। এ পানির প্লান্ট থেকে পানি সরবরাহ শুরু হলে বন্দর ব্যবহারকারী, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর সংলগ্ন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

মোংলা বন্দর সূত্রে জানা যায়, মোংলা বন্দর ভবন থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের দিগরাজ মোড়ে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এ প্লান্ট নির্মাণে ব্যয় হবে ২৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

তিতাস বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ প্লান্ট নির্মাণ করছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির পানির রিজার্ভের পাইলিংয়ের কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাউন্ডারি ওয়ালের কাজও প্রায় শেষ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২১ সালে মাঝামাঝিতে এ প্লান্ট নির্মাণ শেষ হবে। এ প্লান্ট থেকে পানি সরবরাহ শেষ হলে সমুদ্রগামী জাহাজ, বন্দর অফিস, আবাসিক এলাকা, বন্দর সংলগ্ন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সুপেয় পানির বাড়তি চাহিদা পূরণ হবে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সমুদ্র উপকূলবর্তী হওয়ায় ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে মোংলা বন্দরে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। মোংলা পোর্ট পৌরসভার বাসিন্দাদেরও রয়েছে প্রকট পানির চাহিদা। সমুদ্র থেকে সরাসরি নদীতে লবণ পানি ঢুকে পড়ায় খাবার পানির জন্য একমাত্র বৃষ্টির ওপরই নির্ভর করতে হতো মোংলা বন্দর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট মানুষদের। সুপেয় পানির অভাবে বন্দর সংলগ্ন এলাকার অনেক চাকরিজীবী মোংলায় বসবাস না করে খুলনা ও বাগেরহাটে বাসা ভাড়া করে থাকেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি সুপেয় পানির জন্য সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমুদ্রগামী জাহাজ কর্তৃপক্ষ, মোংলা বন্দরের শ্রমিক, কর্মচারী-কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজন।

বন্দর কর্মরত বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিকরা জানান, বন্দরে কাজ করেই আমাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। কিন্তু বন্দরের ভেতরে সুপেয় পানির তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি কিনে নিয়ে যান তারা। শুনেছি, পানির সংকট মেটাতে একটি বড় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট হচ্ছে। এটি হলে আমাদের জন্য খুব উপকার হবে।

মোংলা বন্দর সংলগ্ন এলাকার চাকরিজীবী আব্দুল লতিফ বলেন, বন্দরের চারপাশে প্রচুর পানি। এরপরও বন্দর এলাকার সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে সুপেয় পানির অভাব। কারণ পশুর নদীর পানি হচ্ছে লবণাক্ত। এ পানির অভাবেই আমরা মোংলায় রাত্রিযাপন করতাম না। সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ হলে আমাদের পানির চাহিদা মিটবে। এ এলাকার স্থানীয় মানুষ ও চাকরিজীবীরা ভালো থাকতে পারবেন। 

মোংলা বন্দরের জন্য সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অনুপম গাইন বলেন, প্রকল্পের সব প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মূল প্লান্ট নির্মাণ শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্লান্টের কনস্ট্রাকশন কাজ ৩৫ শতাংশের মত শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি, ২০২১ সালে জুনের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে পারব। তবে করোনার কারণে বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল, যার কারণে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।