বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৪ মাঘ ১৪২৭

আনিসুল হকের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হোক
মোস্তাফিজ বুলবুল
প্রকাশ: রোববার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০, ৯:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আনিসুল হকের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হোক

আনিসুল হকের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হোক

আজ ৩০ নভেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনিসুল হকের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের এইদিনে তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি ছিলেন নন্দিত টিভি ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী নেতা ও সবার প্রিয় একজন মানুষ। তাঁর রেখে যাওয়া স্বপ্নের ঢাকা বাস্তবায়নে কাজ করার মাধ্যমে এই নন্দিত সাবেক মেয়রের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব বলে আমরা মনে করি। 

নাতির জন্ম উপলক্ষে ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই সপরিবারে লন্ডনে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন আনিসুল হক। অসুস্থ বোধ করায় লন্ডনের একটি হাসপাতালে গেলে সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষা চলার মধ্যেই সংজ্ঞা হারান তিনি। পরে চিকিৎসকরা তার মস্তিস্কের রক্তনালীতে প্রদাহজনিত সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস শনাক্ত করেন। অবস্থার উন্নতি ঘটলে ৩১ অক্টোবর তাকে আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশনে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমান্বয়ে অবনতি হতে থাকে। 

আনিসুল হকের জন্ম ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২, চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালি জেলায়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। একজন সফল উদ্যোক্তা, সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ এবং টেলিভিশন উপস্থাপক ছিলেন আনিসুল হক। ৮০ থেকে ৯০র দশকে টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। 

১৯৮৬ সালে তিনি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদী গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই গ্রুপের শুধুমাত্র তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতেই প্রায় ১২ হাজার মানুষ কাজ করেন। তৈরি পোশাক রফতানি ছাড়াও এই গ্রুপের রয়েছে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, দুটি আইটি কোম্পানি, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং একটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি রয়েছে। আনিসুল হক শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট ছিলেন ২০০৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। বিজিএমইএ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সংগঠন, যা ৩৫০০ তৈরি পোশাক কারখানা ও প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিকের স্বার্থ সংরক্ষণ করে থাকে। বাংলাদেশের রফতানির ৮০% হয় তৈরি পোশাক খাত থেকে। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বিনা শুল্কে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ইউরোপে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের জন্য সেসময় তিনি জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। 

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) গঠিত হয়েছে দেশের ২৭৬টি অ্যাসোসিয়েশন ও ৮৪টি চেম্বার অব কমার্স নিয়ে। বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে এফবিসিসিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত। 

বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের চেম্বার অব কমার্সের সমন্বয়ে গঠিত সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কাজ সার্কভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ গতিশীল রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানুষে মানুষে মেলবন্ধন সৃষ্টি। ২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত এই সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আনিসুল হক। 

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আনিসুল হক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন ২০১৫ সালের এপ্রিলে। নিজের নির্বাচনী ইশতেহারে রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ‘স্মার্ট’ নগরী হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রচারের শুরু থেকেই তিনি বলতেন, ঢাকার সমস্যা চিহ্নিত, এখন সমাধান করতে হবে। সেই অনুসারে নির্বাচিত হওয়ার পর শুরু করেন ‘সমাধান যাত্রা’। 

উত্তরা থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত সড়কে ২২টি ইউলুপ তৈরির পরিকল্পনা ছিল মেয়র আনিসুল হকের। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছিলেন সবসময়। সবুজ ঢাকা গড়তে নগরের ফুট ওভারব্রিজ সাজিয়েচিলেন দৃষ্টিনন্দন গাছগাছালি দিয়ে। ভ্রাম্যমাণ হকারদের পুনর্বাসনের জন্য ভ্রাম্যমাণ গাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নেন। গুলশানে ইউনাইটেড টাওয়ারে ‘নগর ভবন’ স্থানান্তর করে সেখান থেকে নগরবাসীকে সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা দিচ্ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে বিটিভিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মুখোমুখি অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনও করেছিলেন তিনি। তবে পরে টেলিভিশনের পর্দায় মানুষ তাকে বেশি দেখেছিল ব্যবসায়ী নেতা হিসেবেই। 

মোহাম্মদী গ্রুপে ও ব্যক্তিজীবনে আনিসুল হকের পথ চলার সাথী ছিলেন তাঁর স্ত্রী রুবানা হক। রুবানা হক গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এত বড় দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের লেখক সমাজেও তাঁর সরব উপস্থিতি। আনিসুল হক ও রুবানা হকের তিন সন্তান। তাঁদের বড় সন্তান নাভিদুল হক বর্তমানে মোহাম্মদী গ্রুপের ডিরেক্টর এবং দেশ এনার্জি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বোস্টনের বেন্টলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় ডিগ্রি অর্জন করেছেন। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় কাজ করছেন তাঁদের আরেক সন্তান ওয়ামিক উমাইরা। আর বোস্টনের সিমনস কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে সম্প্রতি স্নাতক সম্পন্ন করেছেন তাঁদের আরেক সন্তান তানিশা হক। 

 এই প্রিয় ব্যাক্তিত্বের আদর্শ ও উদ্দেশ্যে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হবে সবাইকে। সেটাই হোক তার এই ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকীর দিনে সবার অঙ্গীকার। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।