বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৪ মাঘ ১৪২৭

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে একটি মহল ফায়দা লুটতে চায়
ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক কেন
কোরআন ও হাদিসে ভাস্কর্য স্থাপনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই
এম উমর ফারুক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০, ১১:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক কেন

ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক কেন

দেশে এখন মূর্তি ও ভাস্কর্য নিয়ে চরম উত্তেজনা চলছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনকে ঘিরে এ উত্তেজনা শুরু হয়েছে। মূর্তি ও ভাস্কর্য যে এক নয় বলে কোরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য এমএ আউয়ালসহ আরও অনেক হাফেজ মাওলানা। এই ইস্যুকে ঘিরে ইসলামী কিছু সংগঠন বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। তারা ভাস্কর্যকে মূর্তি বলে অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অপর দিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী অনাহূত বিতর্কের সৃষ্টি করছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের সংস্কৃতির প্রতি চ্যালেঞ্জ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রিয় মানুষের মনে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ইস্যুকে ঘিরে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে গ্রেফতারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টা থেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন তারা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক। গত ১৩ নভেম্বর শুক্রবার (রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শানে রিসালাত কনফারেন্সে তিনি এ দাবি জানান। মামুনুল হক বলেন, ধোলাইখালে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি স্থাপন বঙ্গবন্ধুর আত্মার সঙ্গে গাদ্দারি করার শামিল। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করে তারা বঙ্গবন্ধুর সুসন্তান হতে পারে না। এর মাধ্যমে মসজিদের শহরকে মূর্তির শহরে পরিণত করার অপচেষ্টা চলছে। এ মূর্তি স্থাপন বন্ধ করুন। যদি আমাদের আবেদন মানা না হয়, আবারও তাওহিদি জনতা নিয়ে শাপলা চত্ত্বর কায়েম হবে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এরপরই গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মাহফিলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, কোনো ভাস্কর্য তৈরি হলে তা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে।

ইসলাম ধর্মের পণ্ডিত ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিষয়টির সঙ্গে হেফাজতিরা ইসলামকে জড়িয়ে ফেলেছে। বিষয়ে কোরআন, হাদিস, সিরাত (ইবনে হিশাম ইবনে ইবনে ইসহাক), তারিখ আল তারারি ও অন্যান্য দলিল কী বলে। প্রথমেই তিনটি শব্দ বুঝে নেওয়া যাকÑ প্রতিমা, ভাস্কর্য ও মূর্তি। প্রতিমা হলো মানুষ যার আরাধনা উপাসনা করে, ইহকালে-পরকালে মঙ্গল চায়, ভুলের ক্ষমা চায় ইত্যাদি। ভাস্কর্য হলো মানুষসহ কোনো প্রাণী বা কোনো কিছুর মূর্তি যাকে মানুষ রাখে সম্মান দেখতে বা সৌন্দর্যবর্ধন করতে, যার মানুষ আরাধনা বা উপাসনা করে না। এবারে অন্যান্য দলিলের দিকে তাকানো যাক, সেখানে আমরা দেখব হজরত মুহাম্মদের (সা.) বাড়িতে মূর্তি ছিল তার সম্মতিক্রমেই। সব দলিলের শেষে আমরা কোরআনে যাব এবং দেখতে পাব আল্লাহর নির্দেশেই এক পয়গম্বরের প্রাসাদে ভাস্কর্য ছিল।

কোরআনে যাওয়ার আগে প্রথমেই হাদিস ও অন্যান্য দলিল। কাবাতে রাসূল (সা.) লাত, মানাত, উজ্জা, হোবল, ওয়াদ ইত্যাদির প্রতিমা ভেঙেছিলেন, এগুলোর আরাধনা করা হতো বলে। ভাস্কর্য ও মূর্তির বিপক্ষে কিছু হাদিস আছে; কিন্তু সাধারণত বিপক্ষের দলিলে আমরা ব্যক্তির নাম ও ঘটনার বিবরণ পাই না, যা পক্ষের হাদিসগুলোতে পাই। পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ। (ক) সহি বুখারি ৮ম খণ্ড হাদিস ১৫১: আয়েশা বলিয়াছেন, ‘আমি রাসূলের (সা.) উপস্থিতিতে পুতুলগুলো লইয়া খেলিতাম এবং আমার বান্ধবীরাও আমার সহিত খেলিত। যখন আল্লাহর রাসূল (সা.) আমার খেলাঘরে প্রবেশ করিতেন, তাহারা লুকাইয়া যাইত, কিন্তু রাসুল (সা.) তাহাদিগকে ডাকিয়া আমার সহিত খেলিতে বলিতেন।’

গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান বলেছেন, বাঙালি সংস্কৃতি বিজাতীয় সংস্কৃতি নয়, এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতিতে যেসব জিনিস শিরক বা আল্লাহর সঙ্গে অংশীবাদিতার মিশ্রণ ছাড়াই পালিত হয়ে আসছে, সেটিকে হঠাৎ করে শিরক সংস্কৃতি বলা নোংরা রাজনীতি ছাড়া কিছুই নয়।

বুখারি শরিফের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, রাসূলের বিখ্যাত হাদিস, ‘ইন্নামাল আমালু বিন্নিয়্যাত (নিয়তের ওপর কাজ নির্ভরশীল)’। মূর্তি বা ভাস্কর্য মানেই শিরকের উপকরণ নয়। হজরত আয়শা (রা.)-এর ঘরে ঘোড়ার ছোট মূর্তি রাখা ছিল (সূত্র : বুখারি শরিফ-কিতাবুল আদাব)। কই, রাসূল (সা.) তাকে তো নিষেধ করেননি। এই ছোট পুতুল বা মূর্তি পূজার জন্য ছিল না; বরং খেলার জন্য ছিল। তাই রাসূল (সা.) নিষেধ করেননি।

মাওলানা জিয়াউল বলেন, হজরত আয়শার (রা.) ঘরে ঘোড়ার ছোট মূর্তি পূজার জন্য ছিল না; বরং খেলার জন্য ছিল। তাই রসূল (সা.) নিষেধ করেননি। একইভাবে যেসব ভাস্কর্য সৌন্দর্য চর্চা ও রুচিশীলতার পরিচয় বা ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার স্মৃতিফলক হিসেবে স্থাপিত হয়, তা ইসলামি শিক্ষানুযায়ী নিষিদ্ধ নয়।

মাওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, বাঙালি সংস্কৃতি বিজাতীয় সংস্কৃতি নয়, এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতিতে যেসব জিনিস শিরক বা আল্লাহর সঙ্গে অংশীবাদিতার মিশ্রণ ছাড়াই পালিত হয়ে আসছে, সেটিকে হঠাৎ করে শিরক সংস্কৃতি বলা নোংরা রাজনীতি ছাড়া কিছুই নয়।

তিনি বলেন, ভাস্কর্য, প্রতিমা পূজা, মূর্তি- এক জিনিস নয়। পবিত্র কোরআনের সূরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াতে ভাস্কর্য নির্মাণের উল্লেখ করে বলা হয়েছে উহারা সুলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্যসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ নির্মাণ করিতো। আমি বলিয়াছিলাম, হে দাউদ-পরিবার, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ করিতে থাক। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পই কৃতজ্ঞ।

মূতি বা ভাস্কর্য মাত্রই শিরকের উপকরণ নয় দাবি করে সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি বলেন, ‘যেটি যে উদ্দেশ্যে বানানো হয়, সেটিকে সেভাবে বিবেচনা করতে হবে। 

গত সোমবার রাজধানীর কলাবাগানে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল বলেছেন, মূর্তি ও ভাস্কর্যের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। মূর্তি হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপাসনার অংশ, ভাস্কর্য সভ্যতার ধারাবিবরণী। মুসলিমসভ্যতাসহ পৃথিবীর সভ্যতার একটি বড় নিদর্শন মানুষের সামনে উন্মোচিত হয়েছে ভাস্কর্য-শিল্পের মধ্য দিয়ে। যারা আধুনিক পৃথিবীর শিক্ষা-শিল্পকলা সম্পর্কে অজ্ঞান, তাদের ব্যবহার করেই এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরুদ্ধে কয়েকজন তথাকথিত আলেমের হুমকি-ধমকির প্রতিবাদ জানিয়ে এমএ আউয়াল বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কিছু আলেম দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে ভিন্ন কোনো পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে মূর্তির সঙ্গে তুলনা করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করা দেশের শান্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে সাবেক এমপি এম আউয়াল বলেন, বাংলাদেশের সৃষ্টি যার হাত ধরে, দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের জন্য যার প্রাণ নিবেদিত, তার ভাস্কর্যকে মূর্তির সঙ্গে তুলনা করা মানে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা। মহান মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা করার নামান্তর। গত কয়েক দিনে যে সকল আলেম পরিচয়ধারী বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়েছে, এদের সঙ্গে উগ্রপন্থী-জঙ্গিদের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, তালেবানদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখন করোনা মোকাবেলা করছে, জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনীতি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, ওই সময় কিছু চিহ্নিতমহল ভাস্কর্যকেন্দ্র করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, প্রকৃত ইসলামের ধর্মপ্রাণ মানুষকে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

এদিকে, গতকাল শনিবার সকালে সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী অনাহূত বিতর্কের সৃষ্টি করছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের সংস্কৃতির প্রতি চ্যালেঞ্জ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রিয় মানুষের মনে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না, জনগণের শান্তি বিনষ্টের যে কোনো অপচেষ্টা জনগণই রুখে দাঁড়াবে। দেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো বক্তব্য বরদাশত করা হবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান আগেই বলেছেন, দেশে পবিত্র কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন হবে না। তাই অন্য কোনো পথ না পেয়ে ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে সহনশীলতা বিনষ্টের অপচেষ্টা করা হচ্ছে, যা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে এ দেশে ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা, চর্চা এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারে মাদ্রাসা বোর্ড পুনর্গঠনসহ ইসলাম প্রচারে তাবলিগ জামাতকে জমি প্রদান করেছিলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা পবিত্র ইসলাম ধর্মের একজন নিবেদিতপ্রাণ ও অনুসারী হিসেবে ইসলামের সঙ্গে জ্ঞান–বিজ্ঞানের সমন্বয় করে প্রকৃত ইসলামের চর্চা এগিয়ে নিতে প্রতিটি উপজেলায় নির্মাণ করেছেন মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স। একজন ধর্মপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে, তখন এ দেশে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যক্রম হবে, তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ভাস্কর্যকে যারা মূর্তি বলে অপপ্রচারে নেমেছে, তারা নিজেরাই ভ্রান্তিতে আছে। দেশের আলেম সমাজ এবং বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই বারবার বলেছেন, মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। ইসলাম আমাদের ধর্ম। এ ধর্মের বিধিবিধানে ধর্মীয় ইস্যুতে বাড়াবাড়ির সুযোগ নেই। নিরুৎসাহিত করা হয়েছে ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্ক করতে, নিষেধ করা হয়েছে ফেতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টিতে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থপতির ভাস্কর্য টেনেহিঁচড়ে নামাবেন বলে কোনো কোনো ধর্মীয় নেতা ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন। তাঁদের এমন রুচি এবং ভাষা ব্যবহার দেখে তাঁদের ধর্মচর্চা ও ইসলামি রুচিবোধ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রকৃত ইসলাম চর্চার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে সবাই বিরত থাকি। ধর্মকে রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যবহার না করি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধুরভাস্কর্য দেশের স্বাধীনতা ও ইতিহাসের অংশ। এই প্রজন্ম ভাস্কর্য দেখে শিখবে। ইতিহাস জানবে। এটা মূর্তি কেন হবে? এখানে তো কেউ পূজা করতে যাবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে কোনোভাবে আশকারা দেওয়া ঠিক হবে না।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে যতটুকু বলেছেন ক্ষমা চেয়ে সাবধান হয়ে যান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করলে ঘাড় মটকে দেবো। আর মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। যারা এই ভাস্কর্য পছন্দ করেন না, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সংবিধান এবং আইনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। বাংলাদেশ কোনো মৌলবাদী গোষ্ঠীর আস্ফালনের জায়গা নয়। ধর্মের নামে কোনো উসকানি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের যে কোনো চেষ্টা রুখে দেবে সরকার।

নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ওদের তো এই শিক্ষা নেই। ওরা কী বলল তাই তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।তবে, মৌলবাদী কোনো গোষ্ঠীকেই সরকার সুযোগ দেবে না।

ওলামা লীগের মহাসচিব মাওলানা আবুল হাসান শাহ শরিয়তপুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ইসলামে কোনো সমস্যা নাই। এটা সবাই দেখবে সেই জন্য বানানো হচ্ছে। হেফাজত ও জামাত শিবির এর বিরোধিতা করছে। তারা অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বানানো হচ্ছে, সেটা হোক । কোরআনের আয়াত দিয়েও অন্য জায়গায় বানানো যাবে। এটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করার কোনো দরকার নাই।

ভাস্কর্য ও মূর্তি এক নয় দাবি করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গতকাল সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সৌদি আরবসহ বিশ্বের ১৩টি মুসলিম দেশে ভাস্কর্য আছে।  যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, তারা অচিরেই ভাস্কর্য ও মূর্তির পার্থক্য বুঝবেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।