বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১ ১৩ মাঘ ১৪২৭

পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সরকারের রোডম্যাপ প্রণয়ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০, ৬:২৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে সরকার। এটি বাস্তবায়ন হলে চার বছরের মধ্যে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজেই পূরণ হবে চাহিদা। কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কম হওয়ায় দেশে পেঁয়াজের চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আর পেঁয়াজ আমদানি মূলত ভারত-নির্ভর। ভারত রফতানি বন্ধ করে দিলে অস্থির হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার। এই পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক গত মাসে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এরপর পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য একটি রোডম্যাপের খসড়া প্রণয়ন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। প্রথম খসড়াটি তিন বছর মেয়াদি। এটি উপস্থাপন করা হলে কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে ডিএই-কে পরিমার্জনের নির্দেশনা দেয়। সে অনুযায়ী ডিএই চার বছরের রোডম্যাপ প্রণয়ন করে। গত ২৩ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ে এক সভায় রোডম্যাপটি উপস্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আসাদুল্লাহ বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হব ইনশাআল্লাহ।

রোডম্যাপের অংশ হিসেবে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনতে বিভিন্ন কৌশল নেয়া হবে। চাষিদের পেঁয়াজ সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। হাইটেক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু হবে।

মহাপরিচালক বলেন, রোডম্যাপ অনুযায়ী এবার পেঁয়াজের ফলন দুই লাখ টন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হবে। পরের বছর (২০২১-২২) তিন লাখ ২২ হাজার টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তিন লাখ ৫০ হাজার টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক লাখ টন পেঁয়াজ অতিরিক্ত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সব ঠিকঠাক হলে চার বছর পর এখনকার তুলনায় পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ টন বেশি হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইং ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজ চাষের আওতায় জমির পরিমাণ দুই লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর। এসব জমিতে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৫ লাখ ৬৬ হাজার টন। উৎপাদিত পেঁয়াজের মধ্যে রবি ৮১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, মুড়িকাটা ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১০ দশমিক ৮২ টন।

২৫ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হলেও এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। তাই উৎপাদন ১৯ লাখ টনের মধ্যে থাকে। বীজ ও অপচয় বাদে মোট চাহিদা ২৫ লাখ ৯৬ হাজার টন। ২৫ শতাংশ সংগ্রহোত্তর ক্ষতি বিবেচনায় উৎপাদন দরকার ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টন। সে অনুযায়ী, পেঁয়াজের ঘাটতি ৮ লাখ ৯৫ হাজার টন। প্রতি বছর মোটামুটি ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।

ডিএই-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৯০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি হয় ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯২০ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪০ টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানি করা হয় ১০ লাখ ৯১ হাজার টন। গত অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৭ হাজার ২২০ টন। আমদানি করা পেঁয়াজের প্রায় পুরোটাই ভারত থেকে এসেছে। আর সামান্য পরিমাণ এসেছে চীন, মিশর, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) ২৫ লাখ ৯৬ হাজার টন নিট চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ শতাংশ ক্ষতিসহ পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টন। উৎপাদনশীলতা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে ছয় লাখ ২৫ হাজার টন। দুই লাখ ৭০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা হবে।

পরের বছর (২০২১-২২) চাহিদা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ২৫ হাজার টন। ক্ষতিসহ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ লাখ টন। একই অর্থবছরে ৬৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে চতুর্থ বছরে কোনো পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না। বরং পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।