শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পাবনায় আখচাষি শ্রমিক-কর্মচারিদের বিক্ষোভ সমাবেশ
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০, ৭:২৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পাবনায় আখচাষি শ্রমিক-কর্মচারিদের বিক্ষোভ সমাবেশ

পাবনায় আখচাষি শ্রমিক-কর্মচারিদের বিক্ষোভ সমাবেশ

লোকসানের অজুহাতে দেশের ১৫টি সুগার মিলের মধ্যে ৬টি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাবনায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন আখ চাষি, মিল শ্রমিক ও কর্মচারিরা। শনিবার(২১ নভেম্বর) দুপুরে পাবনা চিনিকল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে চাষি সংগঠক ও মিলের শ্রমিক- কর্মচারিরা বলেন 
চালু থাকলে দেশের ১৫টি চিনিকল চালু রাখতে হবে। বন্ধ করতে হলে সব চিনিকলই বন্ধ করে দিতে হবে। আর চিনিকল বন্ধ করা হলে চাষি ও কর্মচারিরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন। 

দেশের সুগার মিল গুলোর ক্রমবর্ধমান লোকসান ঠেকাতে ১৫ টি সুগার মিলের মধ্যে ৬টি সুগার মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প কর্পোরেশন। বন্ধের তালিকায় পাবনা সুগার মিল ছাড়াও কুষ্টিয়া, সেতাবগঞ্জ, রংপুর, শ্যামপুর ও পঞ্চগড়ের সুগার মিল মিল রয়েছে। এ বন্ধ প্রক্রিয়ার মধ্যে পাবনা সুগার মিলস্ লিঃ চিনিকলের নাম থাকায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন মিল জোনের চাষি, শ্রমিক ও কর্মচারিরা। পাবনার দাশুড়িয়ায় অবস্থিত ঈশ্বরদী সুগার মিল প্রাঙ্গণে বেলা ১১ টা থেকে দুুপুর দু’টা পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশ ও দফায় দফায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 

বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ও আখচাষি কল্যাণ সমিতি পাবনা সুগার মিলস্ লিঃ এর সভাপতি আলহাজ শাজাহান আলী ওরফে পেঁপে বাদশা সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক মোখলেসুর রহমান মিন্টু, ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম বাবু, আখ চাষি কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক আনসার আলী ডিলু, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বকুল, সলিমপুর উইনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু, আখ চাষি মুরাদ মালিথা, আমজাদ হোসেন মালিথা ও হামিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, আসাদুর রহমান, জহুরুল হক, শ্রমিক কর্মচারি ওয়ার্কার্সার ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহিন, সাধারন সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্বল প্রমুখ।
 
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন দেশে বিমান, রেলওয়ে, তাঁত শিল্প কি লোকসানে নেই? সেগুলো তো বন্ধ হচ্ছে না। ওই সব সেক্টরের তুলনায় সামান্যই লোকসান চিনিকলে। তারপরও মোট চিনিকলের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। সে টাকার বার্ষিক ৪ শতাংশ মুনাফা ধরলেও বছরে বাড়ছে প্রায় ১২ শ’ কোটি টাকা। সে হিসেবে চিনিকলকে অলাভজনক বলাই যাবে না। তারা বলেন, ১৮ মাসের ফসল হ’ল আখ। চাষির মাঠে এখনো আখ। অথচ এরই মধ্যে বলা হচ্ছে পাবনাসহ দেশের ৬টি মিল বন্ধ করে দেয়া হবে। তারা বলেন- এ আখ তারা কি করবেন? চিনিকল বন্ধ করতে হলে অন্তত: দেড় বছর আগে ঘোষণা দেয়া উচিত ছিল। তারা বলেন, অনেক চাষি বংশ পরম্পরায় আখ চাষ করে আসছেন। পাবনা চিনিকলসহ ১৫টি চিনিকলে অন্তত সাড়ে দশ হাজার শ্রমিক কর্মচারি রয়েছেন। চিনিকল বন্ধ হলে চাষি ও কর্মকর্তা- কর্মচারিরা সপরিবারে মানবিক সংকটে পড়বেন। 

বক্তারা বলেন, দেশে চিনিকল চালু আছে তাই আজো চিনির বাজার সহনশীল। চিনিকল বন্ধ ঘোষণার পরদিন থেকেই চিনির দাম চারগুণ বেড়ে যাবে। তারা বলেন, কোন মহলের বাজার তৈরি করে দেয়ার জন্য এমন ষড়যন্ত্র চলতে পারে। 

বক্তারা বলেন, চিনিকল বন্ধ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি জনগণের প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন। তারা বলেন, মুজিব বর্ষে  মানবতার জননী স্বরুপ প্রধানমন্ত্রী এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নিবেন বলে তারা বিশ^াস করেন না। তারা বলেন, যে নেত্রী অন্য দেশের মানুষকে বিপদে আশ্রয় দেন, তিনি নিজ দেশের মানুষকে তাদের জীবনের মাঝপথে কর্মহীন বেকার করে দিতে পারেন না। এটা এক শ্রেণির সুবিধাবাদী আমালাদের ষড়যন্ত্র।
 
চাষিরা বলেন, আখ চাষকে ভালবাসেন বলে তারা বছরের পর বছর টাকা বাকি থাকা সত্ত্বেও গত এক যুগ ধরে আখ চাষিরা তাদের আখ পাবনা সুগার মিলে সরবরাহ করে আসছেন। বছরের পর বছর তারা অন্য ফসল বাদ দিয়ে আখ চাষ বাড়িয়ে চলেছেন। এই চিনি কলে গত বছর আখ সরবরাহের চাষি ও শ্রমিকদের অর্থ এখনো বকেয়া রয়েছে। চলতি বছর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয়ভাবে মিল বন্ধের গুঞ্জন শুনে আখ চাষি ও কর্মচারিরা দিশেহারা পড়েছেন। এখন পর্যন্ত চিনিকল এলাকার চাষিদের সাথে মিল কর্তৃপক্ষ চুক্তিপত্রও সম্পাদন করেনি। তারা বলেন, কৃষক- শ্রমিক - কর্মচারিরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নেমেছেন। এসময় আন্দোলনকারীরা ৫ দফা দাবি দাওয়া পেশ করেন।

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হ’ল- বাংলাদেশের সকল চিনিকলে চলতি মৌশুমে আখ মাড়াই করতে হবে। বকেয়া বেতনসহ শ্রমিক- কর্মচারি ও চাষিদের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করতে হবে, কৃষক পর্যায়ে সার কীটনাশকসহ সকল উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। 

বাংলাদেশ আখচাষী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শাজাহান আলী ওরফে পেঁপে বাদশা বলেন, ইতিমধ্যে সরকার দেশের ছয়টি চিনিকল বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেই তালিকায় পাবনা সুগার মিল রয়েছে। পাওনা মিটিয়ে দেয়ার পর আখ চাষি ও শ্রমিকরা আগামিতে কি করবে এটা আগে সরকারকে ভাবতে হবে।
পাবনা সুগার মিল শ্রমিক কর্মচারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহিন বলেন, এই সুগার মিল আমাদের প্রান। পাবনা সুগার মিলের সকল শ্রমিককে নিয়ে আগামীতে বিৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। 

পাবনা সুগার মিল শ্রমিক কর্মচারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, গত সাত মাস এই মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে মিল বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তারা হতাশ। তিনি শ্রমিকদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলনের ডাক দেন। 

পরে শ্রমিকরা স্লোগান দিয়ে সুগারমিলের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করে। পাবনা সুগার মিলের প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক কর্মচারি কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সমাবেশ শেষে মিলচত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় আগামী ২৮ নভেম্বর মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ। 

এদিকে আখ চাষি ও শ্রমিক- কর্মচারিদের আন্দোলন প্রসঙ্গে পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ জানান, আসলে মিল বন্ধ হয়ে যাবে না চালু থাকবে তিনি নিশ্চিত নন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে এ পর্যন্ত কিছু জানাননি। তবে তিনি অন্যদের মত মুখে মুখে গুঞ্জন শুনছেন বিল বন্ধ হওয়ার বিষয়টি। আর চাষিদের সাথে এ পর্যন্ত চুক্তিপত্র সম্পাদন না হওয়ার বিষয়ে জানান, কার্যত মিল চালু থাকবে কিনা এ নিয়ে সবাই দ্বিধায় থাকায় শ্রমিক বা আখ চাষিরা স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হতে বিলম্ব করছেন। সরকারি সুস্পষ্ট ঘোষণার পরই সব কিছু নিশ্চিত হবে। 


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।