শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সম্পত্তির পরিমাণ ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা , তিন মামলার প্রস্তুতি
র‌্যাব হেফাজতে গোল্ডেন মনির
রাজউকের সিল নকল করে নামে-বেনামে ২০০ প্লট
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০, ৭:১০ পিএম আপডেট: ২২.১১.২০২০ ১১:৩৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় গাড়ি ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে ৬শ’ ভরি (আট কেজি) স্বর্ণ, ১০টি দেশের মুদ্রা, এক কোটি ৯ লাখ নগদ টাকা, একটি বিদেশি পিস্তল ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তার বাসা ও গাড়ির শোরুম থেকে পাঁচটি বিলাশবহুল গাড়িও জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়াও পূর্বাচল, নিকুঞ্জ, বাড্ডা, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জে নামে-বেনামে গোল্ডেন মনিরের দেড় হাজার কোটি টাকার ২০০ প্লট আছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৩০টি প্লটের কথা স্বীকার করেছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব। শুক্রবার রাত থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান শেষে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। গত শুক্রবার রাত ১০টার পর র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত চলা এই অভিযানে মনিরকে গ্রেফতারও করে র‌্যাব। অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে এই অভিযান চালানোর পর মনিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাব-৩ এর অপস অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক। 

বাসা থেকে যা যা উদ্ধার হলো: অভিযান শেষে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানায়, গোল্ডেন মনিরের বাসা থেকে বিদেশি একটি পিস্তল, চারটি গুলি, চার লিটার বিদেশি মদ, ৩২টি নকল সিল, ২০ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল, ৫০১ ইউএস ডলার, ৫০০ চাইনিজ ইয়েন, ৫২০ রুপি, ১ হাজার সিঙ্গাপুরের ডলার, ২ লাখ ৮০ হাজার জাপানি ইয়েন, ৯২ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, হংকংয়ের ১০ ডলার, ১০ ইউএই দিরহাম, ৬৬০ থাই বাথ জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর মূল্যমান ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৬ টাকা। এ ছাড়া ৬০০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

মনির যেভাবে হয়ে ওঠেন ‘গোল্ডেন মনির’

৯০ দশকের দিকে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেছিল মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির। পরে নিজেই ক্রোকারিজ পণ্যের দোকান দিয়ে বসেন। ওই ব্যবসায় খুব বেশি লাভ করতে না পেরে স্বর্ণের দোকান দেন তিনি। লোভ-লালসায় মগ্ন হয়ে পাশাপাশি যুক্ত হন লাগেজ ব্যবসায় (চোরাচালানি)। বিভিন্ন অবৈধ পণ্যের চোরাচালানির একপর্যায়ে স্বর্ণ চোরাচালানি কারবারে যুক্ত হন তিনি। রাতারাতি বনে যান কোটিপতি। মানুষ জেনে যায় তার ব্যবসার রহস্য। স্বর্ণ চোরাকারবারি হিসেবেই মানুষ তাকে চিনতে থাকে। মানুষের মুখে মুখেই তার নাম মনির থেকে হয়ে ওঠে ‘গোল্ডেন মনির’।

শুধু তাই নয়, চোরাকারবারী বাধামুক্ত করতে তিনি আশ্রয় নেন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায়। বনে যান হাজার কোটি টাকার মালিক। জমি-প্লট দখলে মগ্ন হয়ে অবৈধ অর্থে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা, (ডিআইটি প্রজেক্ট) নিকুঞ্জ, পূর্বাচল, কেরানীগঞ্জে দুই শতাধিক প্লট ও বাড়ি নিজের করে নেন। শুধু বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টে তার ৩০টিরও বেশি প্লট রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব সূত্র।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কার্যালয়ে গোল্ডেন মনিরের ছিলো খুব প্রভাব। সেখানে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকার বিভিন্ন জমি দখল করেছেন। রাজউকের একজন সাবেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার তথ্যও রয়েছে। তার সহযোগিতায় মনির রাজউক কার্যালয়ে নিজের অফিস হিসেবে একটি রুম ভাড়া নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি ওই রুম অফিস হিসেবে ব্যবহারও করেছেন। এ ছাড়া রাজউকের সিল জালিয়াতি করে একটি জমির দলিল নিজের নামে করে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে রাজউক তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেছিল। 

মনিরের বিরুদ্ধে তিন মামলার প্রস্তুতি ও মামলা : র‌্যাব বলছে, আমরা তার বিরুদ্ধে মূলত যে ফৌজদারি অপরাধ বিদেশি অনুমোদনবিহীন মুদ্রা রাখার জন্য বাড্ডা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করব। তাছাড়া অস্ত্র এবং মাদক রাখার অপরাধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক অস্ত্র ও মাদকের মামলা করবো। গ্রেফতার মনিরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-৩ এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল। একটা মামলা দুদকে, অন্যটি রাজউকে। 

মনিরের সম্পত্তির পরিমাণ ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা : অবৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি এবং ভূমি দখল বাণিজ্য করে মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির ১ হাজার ৫০ কোটি টাকারও অধিক মূল্যের সম্পদ গড়েছেন। মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে ৬শ’ ভরি (আট কেজি) স্বর্ণ, ১০টি দেশের মুদ্রা, এক কোটি নয় লাখ টাকা, বিদেশি পিস্তল ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। 

রাজউকের সিল নকল করে গোল্ডেন মনিরের কব্জায় ২০০ প্লট : রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় শুধু সিল নকল করে রাজধানীতেই ২০০টির বেশি প্লট কব্জা করেছেন তিনি। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে র‌্যাব। র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়। গোল্ডেন মনিরের আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি ভূমিদস্যু। রাজউকের কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া সিল বানিয়ে বিপুল পরিমাণ ভূমি দখল করে অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। ৩০ স্থানে ‘গোল্ডেন মনিরের’ বাড়ি-জমি রয়েছে। এর মধ্যে ডিআইটি প্রজেক্ট ছাড়াও বাড্ডা, নিকেতন, কেরানীগঞ্জ, উত্তরা, নিকুঞ্জে দুইশ’র বেশি প্লট রয়েছে বলে র‌্যাব জানতে পেরেছে। র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘রাজউকের ৭০টি ফ্ল্যাটের নথি নিয়ে গিয়ে আইনবহির্ভূতভাবে হেফাজতে রাখায় ২০১৯ সালে মনিরের বিরুদ্ধে রাজউক কর্তৃপক্ষ একটি মামলা করে। সেটি চলমান রয়েছে। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।