শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন: মনোনয়ন পেতে প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ
দিদার এলাহী সাজু, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০, ৩:৩০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হবিগঞ্জ শহরে বইছে পৌর নির্বাচনের হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে চালাচ্ছেন জোরলবিং। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে চলছে প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরেই হতে পারে হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে 'প্রার্থীর বহর' নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রয়েছে চরম বিপাকে। অপরদিকে, বিএনপিতেও আছে একাধিক প্রার্থী।  
 
আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান, জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজ আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈয়দ কামরুল হাসান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইংল্যান্ড প্রবাসী নুর উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও পূজা উদযাপন পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শংঙ্খ শুভ্র রায়।

বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ও টানা ৩ বারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র আলহাজ্ব জি.কে গউছ। যদিও তিনি নির্বাচন করবেন কি-না বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট।

জি.কে গউছ ছাড়া বিএনপি থেকে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক এম ইসলাম তরফদার তনু। তিনি স্বতন্ত্র ভাবে মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে বিগত উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। ওই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না পেলেও শেষদিকে জেলা বিএনপি’র সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি । 

এছাড়াও বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা বিএনপি’র অপর যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম।

এদিকে,  আওয়ামী লীগ  বিএনপি ছাড়াও নির্বাচনে অংশ দিতে পারে ছোট-বড় বিভিন্ন দল। এদের মধ্যে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি (ব্যকস) এর ২ বারের নির্বাচিত সভাপতি আলহাজ্ব শামছুল হুদা ও  জাতীয় পার্টির প্রার্থী জেলা জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক ও জাপা নেতা অ্যাডভোকেট শিবলী খায়ের।

তবে আলোচনা-সমালোচনা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থীকে ঘিরেই। সর্বত্র এখন একই প্রশ্ন, কে হচ্ছেন ধান-নৌকার কান্ডারী?

 রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে   হবিগঞ্জ পৌর নির্বাচন জেলার রাজনীতিতে উভয় বড় দলের জন্যই 'প্রেস্টিজ ইস্যু।'  তাদের মতে, এবারও একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়তে পারে ক্ষমতাসীন  দল আওয়ামী লীগ। দলটিতে এমন  অনেক একাধিক প্রভাবশালী প্রার্থী আছেন,  যারা শেষ পর্যন্ত কেউ কাউকে ছাড় নাও দিতে পারেন। আর এ সুযোগে অনেকটা সহজেই ঘর গুছিয়ে নিতে পারে বিএনপি।  কারণ  টানা ৩ বারের সাবেক মেয়র জি.কে গউছ শেষ পর্যন্ত  বিএনপি'র প্রার্থী হলে  নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে যেতে পারেন অন্য প্রার্থীরা। নাম না প্রকাশ করার শর্তে এমন আভাসই দিচ্ছেন প্রার্থীদের ঘণিষ্টজনরা। পাশাপাশি   জি.কে গউছ নিজেও বলছেন, 'দলেন ঐক্য ও  সংহতি রক্ষার স্বার্থে  যে কোন সময় যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি।'  

তবে 'বিপাকে' কথাটি মানতে নারাজ জেলা আওয়ামী লীগের  সাধারণ সম্পাদক  আলমগীর চৌধুরী। তিনি জনান, বড় দল হিসেবে একাধিক প্রার্থী থাকা খুবই স্বাভাবিক।  তবে জেলা আওয়ামী লীগে কোন কোন্দল নেই। শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থীই দেয়া হবে।

সচেতন মহলের ধারণা, মূলত এবার তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই মেয়র বাছাই করবেন পৌরবাসী। এগুলো হল, ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং স্পট, জলাবদ্ধতা ও যানজট।

বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান জলাবদ্ধতা নিয়ে কিছু কাজ করলেও ডাম্পিং স্পট স্থাপন ও যানজট নিরসনের বিষয়টি ঝুঁলেই আছে। উপ-নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর স্বল্প সময়ে মেয়র মিজান শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ন বিভিন্ন ড্রেন সংস্কারসহ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহন করেন। এর ফলে স্থায়ী সমাধান না হলেও গেল বর্ষায় জলাবদ্ধতা কিছুটা হলেও হ্রাস পায়। তবে যানজট নিরসনে ফলপ্রসু কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় নি।

আগে থেকেই হবিগঞ্জ শহরে ধারণ ক্ষমতার বেশি টমটম চলাচল করছিল। যে কারণে শহরে যানজটের সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করে। বর্তমানে নতুন করে শতাধিক টমটমের লাইসেন্স দেয়ায় হবিগঞ্জ এখন টমটমের শহরে পরিণত হয়েছে। তবে অনেকে আবার এমনও বলছেন,  'স্বল্প সময়ে জটিল বিষয়ে মাষ্টার প্ল্যান তৈরি অনেকটাই দুরুহ ব্যাপার।'

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনিত প্রার্থী আলহাজ্ব জি কে গউছ কারাগার থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১০ হাজার ৭শত ৯৭ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (বর্তমান মেয়র) মিজানুর রহমান মিজান নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৯ হাজার ২ শত ৬৪ ভোট পেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।

 ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে জি.কে গউছ পদত্যাগ করলে মেয়র পদটি শূণ্য হয়।

 ২০১৯ সালের ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১৩ হাজার ২শত ৮। 

ওই নির্বাচনে দলগতভাবে বিএনপি অংশগ্রহন করেনি। সে সময় নৌকার প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজানের নিকটতম প্রার্থী হিসেবে (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু নারিকেল গাছ প্রতীকে পান ৫ হাজার ৫ শত ৮৭ ভোট।

এছাড়াও ওই নির্বাচনে স্থানীয় ভাবে 'জেলা বিএনপি সমর্থিত' ( বিএনপি মনোনীত নয় ) স্বতন্ত্র প্রার্থী এম ইসলাম তরফদার তনু মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে পান মাত্র ১ হাজার ৪৭ ভোট।

 ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের হবিগঞ্জ পৌরসভা বর্তমানে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদায় উন্নীত। লক্ষাধিক জনসংখ্যার এ পৌরসভায় রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ভোটার।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।