শনিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২১ ৯ মাঘ ১৪২৭

ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়তে শাক-সবজি চাষের বিকল্প নেই
কৃষিবিদ মো. কবির হোসেন, কৃষিবিদ মো. নূরুল ইসলাম ও কৃষিবিদ সাবিনা ইয়াসমিন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০, ৮:১৯ পিএম আপডেট: ১৭.১১.২০২০ ৮:৩৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আমাদের জীবনে খাদ্য অপরিহার্য একটি উপকরণ। যা সঠিকভাবে, সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে খেলেই কেবল আমরা সুস্থ থাকতে পারব, আমাদের মানসিক বিকাশ হবে, আমরা পরিশ্রম করে আমাদের সুন্দর আগামী গড়ে তুলতে পারব। কারণ খাদ্য থেকে পরিশোষণ প্রক্রিয়ায় মানুষ প্রতিদিন চলাফেরা ও সুস্থভাবে বাঁচার জন্য শক্তি ও পুষ্টি উপদান পেয়ে থাকে। আর এজন্য একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ কে তার কাজের ধরণ অনুযায়ী প্রতিদিন ২০০০-৩০০০ কিলো ক্যালরি এবং মহিলাকে ১৬০০-২৪০০ কিলো ক্যালরি খাদ্যশক্তি গ্রহণ করা প্রয়োজন (সূত্র: ঞযব উরবঃধৎু এঁরফবষরহবং, ২০১৫-২০২০)। একজন মানুষের ক্যালরি ইনটেক তার বয়স, উচ্চতা, লিঙ্গ ও শরীরের অবস্থা ও লাইফ স্টাইলের ওপর নির্ভর করে। যদিও কোনোরকম টিকে থাকার জন্য এই পরিমাণ ক্যালরি কেবল শর্করা ও চর্বি উৎস থেকে খুব সহজেই পূরণ করা সম্ভব। কারণ, বাংলাদেশ বর্তমানে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত (প্রায় ৪ কোটি ৭ লাখ মেট্টিক টন, বিবিএস ২০১৭-১৮) কিন্তু আগামী ভবিষ্যৎ নাগরিককে সুস্থ, মেধাবী, উদ্যোগী, কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে তাদের অবশ্যই নিরাপদ, পুষ্টিকর, সুষম খাবার খেতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পুষ্টি চাহিদা নিশ্চয়তার জন্য সঠিক পরিমানে তিন প্রকার খাদ্য যেমন ১. শক্তিদায়ক খাদ্য, ২. শরীর বৃদ্ধিকারক ও ক্ষয়পূরক খাদ্য ৩. রোগ প্রতিরোধক খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করা হলেই খাবার সুষম হবে । আর সুষম খাবার খেলেই আমাদের শরীর পরিপুষ্ট ও নিরোগ হবে আর সুষম খাবারের একটি বড় অংশ আসে উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল থেকে। ফল-মূল, শাক সবজি ইহলো উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল। বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ঋঅঙ) নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো প্রতিবছর ১৬ অক্টোবর ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকে। ২০২০ সালের ১৬ ই অক্টোবর পালিত হলো এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবস ঢাকার  ইন্টার-কন্টিনেন্টাল হোটেলে। 

এর  প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল-
‘বিকশিত হোন, শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন সম্মিলিতভাবে।
আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ’
শরীরের প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় ভিটামিন ও খনিজ লবণসমূহের অভাব হলেই পুষ্টির অভাবজনিত রোগের সৃষ্টি হয়। তাই এই সমস্যা সমাধানকল্পে শাক-সবজি ও ফলমূল বেশি করে খেতে হবে। কারণ শাক-সবজি ও ফলমূলই ভিটামিন ও খনিজ লবণের প্রধান উৎস। এগুলো রোগ প্রতিরোধক খাদ্য। প্রতিদিন একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে অন্ততপক্ষে ৪০০ গ্রাম (সূত্র- এফএও) শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন।  বর্তমানে এই দেশের একজন মানুষ প্রতিদিন গ্রহণ করছে প্রায় ১২০ গ্রাম যা  প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। উৎপাদন বেশি থাকলেও বিভিন্ন কারণে গ্রহণের হার কম। এসডিজি এর ২ নং গোল হলো- ক্ষুধা মুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টির লক্ষ্য অর্জন ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা চালু। সেজন্য দেশের উন্নয়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় শাক-সবজি ও ফলমূল চাষের বিকল্প নেই। 

দেশে ১ কোটি ৯৪ লাখ বসতবাড়ির প্রায় ৪৫ লাখ হেক্টর জমি রয়েছে। এখনও মোট উৎপাদিত ফলের প্রায় ৫৩ শতাংশ ফল বাণিজ্যিক বাগান থেকে উৎপাদিত হয়, বাকি ৪৭ শতাংশ ফলের জোগান আসে বসতবাড়ি ও তৎসংলগ্ন জমি থেকে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটির ও বেশি লোক বাস করে এবং তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রতিবছর প্রায় ১২৪ লক্ষ টন ফল এবং ২৬৮ লক্ষ টন শাক-সবজি উৎপাদন হচ্ছে (সূত্র- ডিএই, ২০১৯-২০)। যদিও চাহিদার তুলনায় এই ফলন পর্যাপ্ত নয়। তাই আমাদের পরিকল্পনা অনুসারে বসতবাড়িতে ও বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষ করতে হবে। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের ফল ও শাক-সবজি বিভিন্ন সময়ে পাওয়া যায়। যেমন বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে অধিক পরিমাণে ফল পাওয়া যায়। সেজন্য ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ করতে পারলে  এবং বিভিন্ন মৌসুমী ফল চাষ সম্প্রসারণ করলে সারা বছরই ফলের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে পুষ্টি চাহিদা মেটানো সম্ভব। প্রতিইঞ্চি জমিকে শাক-সবজি, ফলমূল ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনের কাজে লাগিয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে । খাদ্য নিরাপত্তার মূল বিষয় তিনটি ১. খাদ্যের সহজ প্রাপ্যতা ২. খাদ্যের সহজলভ্যতা ৩. স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্য। (ঋঅঙ) এর খাদ্য নিরাপত্তার সংজ্ঞানুসারে বাংলাদেশ এখনো খাদ্য নিরাপত্তা থেকে দূরে রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা দ্রুত নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে যদি এ খাতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম যথাসময়ে গ্রহণ করা যায়।

এ খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এর সম্ভাবনার ক্ষ্এেগুলো হলো পর্যাপ্ত উন্নত জাত, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সরকারের কৃষি ক্ষেত্রে ভর্তুকী প্রদান, কৃষি  ঋণ প্রদান, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে সহায়তা প্রদান, রপ্তানি বাজার বৃদ্ধি, উত্তম কৃষি চর্চা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস সঠিকভাবে ও বহুল প্রচার। আগামীর বর্ধিত জনসংখ্যার সকলের সুষ্ঠু দেহ গঠন, মানসিক বিকাশ, সুস্থ জীবন এবং বুদ্ধিদীপ্ত জাতিগঠনে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানে উদ্যান ফসলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে আমাদেরকে অবশ্যই সহনশীল প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে ও জীববৈচিত্র সমৃদ্ধিতে মনোযোগ রাখতে হবে। তখনই বাংলাদেশের এই উন্নয়নের ধারা টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি হবেএবং এর সুফল পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। আমাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা ও একনিষ্ঠতা, কঠোর পরিশ্রম একদিন আমাদের পৌঁছে দিবে উন্নতির উচ্চ শিখরে। 

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যেমন পুষ্টিকর খাবার অতীব জরুরি একটি বিষয়, তেমনি তাদের শিক্ষাগ্রহণ করাও অনন্য প্রয়োজনীয় আরেকটি বিষয়। জ্ঞানচক্ষু উন্মোচিত না হলে মানুষ ভালো/মন্দ, অবশ্য করণীয় বিষয়গুলো বুঝতে পারে না বিধায় তারা খাবারের গুণগত পার্থক্যের কথাও অনুধাবন করতে পারে না। সেজন্য বাংলাদেশ সরকার শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিক্ষার হার উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি করেছে। সুশিক্ষিত ও স্বশিক্ষিত নাগরিকেই কেবল পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের প্রয়োজনীতা বুঝতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী সুস্থ্য, সুন্দর, বিকশিত মানুষ তৈরিতে অবদান রাখতে পারবে।

এ কথা সর্বজন বিদিত যে, আমাদের কর্মেই আমাদের ভবিষ্যৎ, তখন কর্মশীল নাগরিক তৈরি করা হোক আমাদের প্রথম পদক্ষেপ। এইজন্য একটি শিশুর জীবনের প্রথম ১০০০ দিন অর্থ্যাৎ মায়ের পেটের ছোট্ট ভ্রণ থেকে শুরু করে তার দ্বিতীয় জন্মদিন পর্যন্ত সময়কালই হচ্ছে তার প্রথম ১০০০ দিন বা ৩৩ মাস এবং এই বিষয়কে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, এই সময়টায় আমরা যদি তাদের সঠিক ও পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার দিতে পারি তাহলেই তারা গড়ে উঠবে যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে। আর এটি নিশ্চিত করতে পারলেই দেশ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে। এর জন্য প্রত্যেক অভিভাবককে গর্ভবতী মায়ের প্রতি আরো যত্নবান হতে হবে। কারণ গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টির ওপরই ভবিষ্যৎ বংশধরদের সুস্বাস্থ্য, জীবনীশক্তি, শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ নির্ভর করে। আর সেজন্য ভাত, মাছ, মাংস, ডাল, শাক-সবজি, ফলমূল , দুধ, ডিম ইত্যাদি নিয়মিত খেতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংপ্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে সরকারের খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য। আর এই উইংটি সারাদেশব্যাপী জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছে ৮৫টি হর্টিকালচার সেন্টারসমূহের মাধ্যমে। যা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে।  পরিচালক, হর্টিকালচার উইংয়ের সুযোগ্য নেতৃত্বে উল্লেখিত সেন্টারগুলো দেশের চাহিদা, আবহাওয়া উপযোগী, আধুনিক ও উন্নত জাতের বিভিন্ন ফসলের চারা ও কলম প্রতিনিয়ত উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্যে বিক্রয় করে চলেছে। এর মাধ্যমে যেকোন মানুষ খুব সহজেই, সরকার নির্ধারিত মূল্যে উচ্চমানসম্মত চারা/কলম সংগ্রহ করে বাণিজ্যিক ও পারিবারিকভাবে চাষ করে তাদের ব্যক্তিগত ও দেশের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে বিরাট অবদান রেখে চলেছে। এ ছাড়াও সেন্টারে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কৃষিবিষয়ক প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান করে খাদ্য উৎপাদনে এবং ফলন বৃদ্ধিতে অসামান্য ভূমিকা রাখছেন। আর বিক্রিত অর্থ সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হয়ে তা আবার অবদান রাখছে দেশের সার্বিক উন্নয়নে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞগণ সরাসরি কৃষকের কাছে গিয়ে নতুন ফসল ও ফল বাগানের পরিকল্পনা ও নকশা তৈরিকরণ, ফলবাগান সৃজন এবং নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে বাগান ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকের নিকট বিনামূল্যে চারা বিতরণ, কৃষক ও কৃষানিদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও মাঠ পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ সেবা ছড়িয়ে দিচ্ছেন সমগ্র বাংলাদেশে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার ও সুবিধার জন্য কখনো কখনো এই সম্প্রসারণ সেবা ছড়িয়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী কেননা উদ্যানতত্ত্ববিদগণ তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রযুক্তি ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবের মাধ্যমে প্রচার করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত: তাতে বহু সংখ্যক লোক সেগুলো দেখে উপকৃত হচ্ছেন। আর এই বহুল প্রচারের মাধ্যমেই প্রতিটি মানুষ পুষ্টিকর খাবার উৎপাদন, গ্রহণ ও বিপণনে উদ্যোগী হচ্ছে আর এভাবেই ২০৩০ এর মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে ও দেশ এগিয়ে যাবে বহুদূর। গড়ে উঠবে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা। এভাবেই দেশের ফল ও শাক-সবজি, ফুল, ওষুধিও মসলা ফসলের উৎপাদন এদেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলছে যার একটি চিএ নিচে দেওয়া হলো:

ফল উৎপাদনের তথ্যাবলী
ফল উৎপাদনের তথ্যাবলী

ফল উৎপাদনের তথ্যাবলী


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। তিনি প্রতিটি বাড়ির আনাচে-কানাচে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি দিয়ে ভরিয়ে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছেন। আর সেজন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বসতবাড়িতে শাক-সবজি ও ফলের প্রদর্শনী স্থাপন করছেন যা দেখে অন্যরাও উদ্যোগী হয়ে দেশের কৃষি উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। নিরাপদ ফল উৎপাদনে এখনও বসতবাড়িতে ফলও সবজি চাষ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি, অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তাসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনেকগুলো সূচকের অভাবনীয় সফলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে সরকারের সঠিক নীতিগ্রহণ, কৃষি সম্প্রসারণ, কৃষি উপকরণের মূল্য হ্রাস ও পর্যাপ্ততা, কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদান, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কারণে। বর্তমানে দেশে খাদ্যের প্রাচুর্যতা এবং অন্যান্য আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটায় সব ধরনের জনগোষ্ঠীর ভোগ চাহিদা বেড়ে গেছে, বেড়েছে পূর্বাপেক্ষা পুষ্টিমান সম্মৃদ্ধ খাবার গ্রহণের পরিমাণ। এ জন্য বেড়েছে জনগণের গড় আয়ু (বিবিএসের তথ্যানুযায়ী ৭২ বছর)। সামগ্রিক অর্থনীতির আশা জাগানিয়া প্রবৃদ্ধি হলেও এখনও আমরা চরমদারিদ্র্য বা সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হতে পারিনি। বিশ্ব খাদ্য দিবসের স্লোগান অনুযায়ী দেশের সব জনগোষ্ঠীর জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবীর অংশ হতে এখনও পারিনি বটে তবে পৃথিবীতে আমরাই এখন এক উন্নয়নের রোল মডেল। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশের মর্যাদা অর্জনে আমরা খুব বেশি দূরে নেই। বিগত দশকের অভূতপূর্ব উন্নয়নের উদ্দীপ্ত কর্মফলের ধারাবাহিকতা আগামীতে চলমান রাখতে পারলে আমরা আশান্বিত হতেই পারি ২০৩০ সালের এসডিজি গন্তব্যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত দেশ এবং ক্ষুধামুক্ত পৃথিবীর গর্বিত অংশীদার।

লেখক : কৃষিবিদ মো. কবির হোসেন, পরিচালক, হর্টিকালচার উইং; কৃষিবিদ মো. নূরুল ইসলাম, উপপ্রকল্প পরিচালক, বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প; কৃষিবিদ সাবিনা ইয়াসমিন, উপজেলা কৃষি অফিসার, সংযুক্ত: হর্টিকালচার উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।