শুক্রবার ২২ জানুয়ারি ২০২১ ৮ মাঘ ১৪২৭

‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ কার্যকর চাই
কে এম মোস্তাক আহম্মেদ
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০, ২:২৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ

‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ কার্যকর চাই

‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ কার্যকর চাই

চলতি শীতে লকডাউনে যেতে চায় না সরকার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘নো মাস্ক, নো এন্ট্রি অ্যান্ড নো সার্ভিস’ নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। করোনাভাইরাস পরীক্ষার সব সুযোগ-সুবিধা শহরাঞ্চলের জন্যই বরাদ্দ করা হয়েছে। সীমিত কিছু পরীক্ষায় করোনাভাইরাস শনাক্তের পরিমাণ হাজার থেকে দেড় হাজারের মধ্যে থাকছে বলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মতুষ্টি চলে এসেছে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা গ্রামে যেতে চান না তাদের মুনাফা হবে না বলে। সরকারিভাবে মুনাফার চিন্তা না থাকলেও শুধু উদ্যোগ গ্রহণের অভাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধা গ্রামের দিকে করা হয়নি। এতদিনে নিদেনপক্ষে প্রতিটি জেলা সদরের হাসপাতালে পরীক্ষার ল্যাবসহ আরটি পিসিআর মেশিন বসানো উচিত ছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে করোনাভাইরাস নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে কি-না তা জানার জন্য মানুষ নিজের আগ্রহেই পরীক্ষা করতে আসেন। 

দেশব্যাপী দৈনিক যে পরীক্ষা করা হয়, এর সবই মানুষ করে থাকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে। রোগ শনাক্ত হলেই এবং সরকারি হাসপাতালে আসলেই কেবল সরকার চিকিৎসা দিচ্ছে। তা না হলে সরকারের পক্ষ থেকে আগাম কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। চলতি শীতে লকডাউনে যেতে চায় না সরকার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘নো মাস্ক, নো এন্ট্রি অ্যান্ড নো সার্ভিস’ নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। অন্যদিকে করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার সন্তুষ্ট। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী নজরদারি প্রশ্নবিদ্ধ। সীমিত কিছু পরীক্ষায় করোনাভাইরাস শনাক্তের পরিমাণ হাজার থেকে দেড় হাজারের মধ্যে থাকছে বলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মতুষ্টি চলে এসেছে। ‘বাংলাদেশে করোনাভাইরাস তেমন ক্ষতি করতে পারেনি, সামনের দিনেগুলোতেও তেমন কিছু হবে না।’Ñ এসব আত্মতুষ্টির কথা মানুষ ইতিমধ্যে বলাবলি করছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এমন আত্মতুষ্টির বিরুদ্ধে এখনই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছেন। তারা বলছেন, জনগণের মধ্যে এমন আত্মতুষ্টি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা থামাতে হবে। রাজধানীর সীমিত কিছু এলাকা ছাড়া সরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী তেমন কোনো সার্ভেইল্যান্স নেই। বিপজ্জনক এই ভাইরাসটি কোন অঞ্চলে কি রকম ছড়িয়েছে, তা জানতে সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন আসুক অথবা না আসুক, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিকভাবে দেশব্যাপী সার্ভেইল্যান্স থাকা উচিত; থাকা দরকার সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি। তারা বলছেন, দেশব্যাপী সরকারি হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে প্রস্তুত করে রাখার এখনই সময়। জেলা সদরের হাসপাতালসহ সব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। করোনা না থাকলেও এসব সরঞ্জাম অন্যান্য রোগে কাজে লাগবে এবং মাঠ পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছাতে পারলে সার্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হবে। 

করোনাভাইরাস শেষ না হলেও কিছু মানুষের মধ্যে আত্মতুষ্টি চলে এসেছে। তারা মনে করছেনÑ গরমের দেশ বলে আমাদের এখানে করোনাভাইরাস খুব খারাপ অবস্থায় নেই। আবার অনেকে মনে করছেনÑ করোনা নেই বললেই চলে। ফলে তারা সাবধানতার জন্য ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিগুলোও মেনে চলছেন না। আবার এমন অনেকেই আছেনÑ যারা স্বাস্থ্যবিধি মানতেই চান না, এটিকে বাড়তি ঝামেলা মনে করেন। এসব কারণে সামনের দিনগুলোতে যদি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আসে, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিনই হতে পারে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আত্মতুষ্টি চলে আসলে এই ভাইরাসটিকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ‘সামনের শীতে অবস্থা যা-ই হোক, সরকার লকডাউনে যেতে চায় না’ এই তথ্যটি সবার কাছে পৌঁছে গেলে মানুষের মধ্যে আত্মতুষ্টি আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে শপিং মলে, কাঁচাবাজারে বাড়তে পারে মানুষের সরব পদচারণা। ভিড়ের বাসে চড়তে মানুষ আরও বেশি উৎসাহিত হতে পারে। এতে করে ভবিষ্যতে বিপদ বাড়বে বৈ কমবে না। করোনাভাইরাস পরীক্ষার সব সুযোগ-সুবিধা শহরাঞ্চলের জন্যই বরাদ্দ করা হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা গ্রামে যেতে চান না তাদের মুনাফা হবে না বলে। সরকারিভাবে মুনাফার চিন্তা না থাকলেও শুধু উদ্যোগ গ্রহণের অভাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধা গ্রামের দিকে করা হয়নি। এতদিনে নিদেন পক্ষে প্রতিটি জেলা সদরের হাসপাতালে পরীক্ষার ল্যাবসহ আরটি পিসিআর মেশিন বসানো উচিত ছিল। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে করোনাভাইরাস নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। অন্যান্য ভাইরাসের মতো এটিও থাকবে এবং এর বিরুদ্ধে সচেনতা সৃষ্টি করে এবং প্রতিষেধকের ব্যবস্থা করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। এমনকি ভ্যাকসিন এলেও সীমিত পর্যায়ে ভাইরাসটির অস্তিত্ব থেকে যাবে। সে কারণে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার ব্যবস্থা উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও নিয়ে যেতে হবে। এ মুহূর্তে এ ব্যবস্থা সরকারি প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলেও মানুষ কিছু সেবা পেতে পারত। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে কি-না তা জানার জন্য মানুষ নিজের আগ্রহেই পরীক্ষা করতে আসেন। দেশব্যাপী দৈনিক যে পরীক্ষা করা হয়, এর সবই মানুষ করে থাকে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে। রোগ শনাক্ত হলেই এবং সরকারি হাসপাতালে আসলেই কেবল সরকার চিকিৎসা দিচ্ছে। তা না হলে সরকারের পক্ষ থেকে আগাম কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। রোগটি যেহেতু সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে, সে কারণে সরকারি উদ্যোগেই সন্দেহভাজন প্রতিটি মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা দরকার। তা না হলে রোগটির ব্যাপকতা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, আবার এটি নিয়ন্ত্রণ করাও হবে কষ্টসাধ্য; কিন্তু গত মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যত রোগী শনাক্ত হয়েছে, সবই হয়েছে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে। 

পরীক্ষায় ফি নির্ধারণের পর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত পরীক্ষার প্রবাহটিও কমে গেছে। বাধ্য না হলে কেউ পরীক্ষা করাতে আসছেন না। শহরে কিংবা গ্রামে কোথাও কুয়ার‌্যান্টিন অথবা আইসোলেশন হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে। তা ছাড়া সরকারি পর্যায়ে অধিকসংখ্যক মানুষের কুয়ার‌্যান্টিন করার ব্যবস্থাও নেই। রাজধানীতে কেবল আশকোনা হাজি ক্যাম্প ও দিয়াবাড়ী ছাড়া আর কোথাও সরকারিভাবে কুয়ার‌্যান্টিনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যেসব কুয়ার‌্যান্টিন ও আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছিল, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সামনের শীতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বিতীয় ঢেউ আসুক বা না আসুক আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে যেন আবারও মহামারি দেখা দিলে কোনো বিলম্ব ছাড়াই চিকিৎসা শুরু করা যায়, মৃত্যু ও মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। চলতি সপ্তাহেই ভারতের সঙ্গে নতুন করে বিমান যোগাযোগ শুরু হবে। জানা গেছে, এখন থেকে দৈনিক এক হাজার যাত্রী ভারত থেকে আসতে পারেন। করোনাভাইরাসে ভারত একটি উচ্চ ঝুঁকির দেশ। করোনাভাইরাস শনাক্তে ও রোগের বিস্তারে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় সংক্রমণের দেশ। 

ভারত থেকে দৈনিক এক হাজার বিমান যাত্রী এলে আগামী এক মাসে ৩০ হাজার যাত্রী আসবেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে আশকোনা হজক্যাম্প ও উত্তরার দিয়াবাড়ীতে দুটি কুয়ার‌্যান্টিন কেন্দ্র করা হয়েছে। এই দুটি কেন্দ্রে সব মিলিয়ে দুই হাজার জনকে কুয়ার‌্যান্টিন করার মতো ব্যবস্থা রয়েছে। এর বাইরে যাত্রীদের কোথায় কুয়ার‌্যান্টিন করা হবে এর কোনো ব্যবস্থা নেই। ‘চলতি শীতে করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন করা হবে না’Ñ এ ধরনের আগাম সিদ্ধান্ত সরকার ইতিমধ্যেই নিয়েছে। পরিস্থিতি খুবই খারাপ হলে সরকার কি করবে তা না বললেও অর্থনীতির কথা বলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ (সেকেন্ড ওয়েভ) শুরু হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশে পরিস্থিতি অবশ্য অতো খারাপ নয়। সে কারণে চলতি শীতে লকডাউনে যেতে চায় না সরকার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘নো মাস্ক, নো এন্ট্রি অ্যান্ড নো সার্ভিস’ নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। অন্যদিকে করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার সন্তুষ্ট। সে কারণে শুধু কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে করোনাকাল অতিক্রম করতে চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লকডাউন ঘোষণা করা হবে নাÑ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে সবকিছুই ‘স্বাভাবিকভাবে’ চলতে দেওয়া হতে পারে।

লেখক : সাংবাদিক


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।