শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পাঠশালা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া জগন্নাথের আজ ১৫বছর পূর্তি
এএমসি শাহরিয়ার, জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০, ৭:৩১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পাঠশালা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া জগন্নাথের আজ ১৫বছর পূর্তি

পাঠশালা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া জগন্নাথের আজ ১৫বছর পূর্তি

২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ১৬১ বছরের পুরনো এই বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ঢাকায় পূর্ববঙ্গ ব্রাহ্ম সমাজের শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রাহ্ম স্কুল। সেই ব্রাহ্ম স্কুল থেকে দেড় শতকের রূপান্তরের ইতিহাস পেরিয়ে ২০০৫ সালে এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

একটি পাঠশালা হিসেবে যাত্রা শুরু করে দেড় শতকের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর অগ্রযাত্রার ইতিহাস বড় রোমাঞ্চকর। উপমহাদেশে প্রথম দিকের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সে সময় শুরু হয়েছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। জগন্নাথ কলেজ এই নামেই বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ সময় জুড়ে পরিচিত ছিল। এটি ঢাকার তখন একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ। ১৮৭২ সালে বালিয়াটির জমিদার কিশোরী লাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজে পরিণত হয়। এ সময় এটিই ছিল ঢাকার উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

উচ্চশিক্ষায় আত্মত্যাগ

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হলে জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গ্রন্থাগারের বই-পুস্তক, জার্নাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সাজাতে জগন্নাথ কলেজ গ্রন্থাগারের ৫০ ভাগ বই দান করা হয়। জগন্নাথ কলেজে আইএ আইএসসিবিএ (পাস) শ্রেণি ছাড়াও ইংরেজি, দর্শন ও সংস্কৃতি অনার্স এবং ইংরেজিতে মাস্টার্স চালু করা হলেও ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয় জগন্নাথকে। পুরান ঢাকার নারী শিক্ষায় বাধা দূর করতে ১৯৪২ সালে সহশিক্ষা চালু করা হয়। ১৯৪৮ সালে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ১৯৪৯ সালে আবার এ কলেজে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়।

আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রপথিক

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ রফিক উদ্দিন (ভাষা শহীদ রফিক) আত্মত্যাগ করেন। ১৯৬৩ সালে অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান পুনরায় কো-এডুকেশন চালু করেন। ১৯৬৮ সালে এটিকে সরকারিকরণ করা হয়, কিন্তু পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারি মর্যাদা লাভ করে। ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এ কলেজের প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালে কলেজে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প ছিল। স্বাধীনতার পর ক্যাম্পাস থেকে একাধিক গণকবর আবিষ্কৃত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি’।

উচ্চশিক্ষার নতুন ধার

২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ বলে কলেজটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। পূর্বতন জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হয়। তাদের নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সনদ লাভ করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১ দশমিক ১১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬৭৯ জন শিক্ষক, ১৩ হাজার ১৬৫ জন শিক্ষার্থী, ৬৮৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। ঢাকার কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমিতে সুবিশাল ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে।

আজ উদ্বোধন হলো জবির প্রথম হল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। এই অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা গুছিয়ে এবার প্রথম আবাসিক হল চালু করতে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসের বিপরীত পাশে লিয়াকত এভিনিউ সংলগ্ন ছাত্রীদের জন্য ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ নামে ১৬ তলাবিশিষ্ট ১ হাজার আসনের একটি হলের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সব কাজ শেষে হলটি এখন ছাত্রীদের থাকার উপযোগী বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ ১৫তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে হলটি উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

দিনব্যপী নানা কর্মসূচি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে সকাল ৯ টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয় । সাড়ে ৯ টায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। এরপর ভার্চ্যুয়াল প্লাটফর্মে আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করার কথা রয়েছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।