মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০ ১১ কার্তিক ১৪২৭

মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে কারিকুলাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ
মির্জা শফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৩৩ পিএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২০ ৪:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের

অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন আইন, ১৯৭৩ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১০/৭৩ এবং সংশোধিত আইন ১৯৯৮-এর ২/(বি) ধারা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের-কে আগামী ০৪ বছরের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। 

শিক্ষা জীবনে তিনি কাঞ্চনা হাইস্কুল, চট্টগ্রাম  কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষিণ কোরিয়ার ইনহা, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এ এন্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। 

অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের চট্টগ্রাম বিশশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ডেপুটেশনে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে লিয়েনে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি জীবন বীমা কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং অদ্যাবধি পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্মজীবনের শুরুতে প্রফেসর আবু তাহের ১৯৮৫ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। পরে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ২০০৪ সালে উক্ত বিভাগে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। 

স্বদেশ প্রতিদিনের একান্ত সাক্ষাৎকারে আজ মিলিত হয়েছেন গুণী এই ব্যক্তি।  সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্বদেশ প্রতিদিনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মির্জা শফিকুল ইসলাম।

প্রতিবেদক :ইউজিসি তে আপনার দায়িত্ব সম্পর্কে যদি একটু বলতেন। 

ইউজিসি সদস্য: ইউজিসির স্থায়ী সদস্য হিসেবে তাঁর দায়িত্ব হলো হিসাব বিভাগ পরিচালনা করা এবং সেই সাথে আরেকটি দায়িত্ব হলো পাবলিক রিলেশন  বিষয়টিকে দেখা।

প্রতিবেদক: আপনার কাজের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ কি বলে আপনি মনে করেন?
 ইউজিসি সদস্য: সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রুলস এন্ড রেগুলেশন এর মধ্যে নিয়ে আসাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

প্রতিবেদক:  অনলাইন শিক্ষা আমাদের দেশে এই মুহূর্তে কতখানি কার্যকরী বলে আপনি মনে করেন।?
ইউজিসি সদস্য: অনলাইন শিক্ষাপদ্ধতি সকলের জন্য সমভাবে পূরণ করা।সম্ভব হচ্ছে না কারণ।অনেকেই সঠিকভাবে নেটওয়ার্ক পাচ্ছে না গ্রামাঞ্চলে থাকার কারণে।  উল্লেখ্য যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।  তিনি  বলেছেন উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অনলাইন এবং অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই সমপর্যায়ে সুযোগ।সৃষ্টি করতে হবে।

প্রতিবেদক: এই মুহূর্তে আরো নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন আছে কি বাংলাদেশের? 
ইউজিসি সদস্য: নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রত্যেক জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে ইউজিসিকে ঢেলে সাজাতে হবে বলে তিনি মনে করেন। 

প্রতিবেদক: আপনি কি মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় তার সঠিক দায়িত্ব পালন করছে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে? বিশ্ববিদ্যালয় কাজ হচ্ছে গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান  তৈরি করা আপনি কি মনে করছেন সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে কি না?
ইউজিসি সদস্য:  ইনক্লুসিভ এডুকেশন সিস্টেম চালু করার মাধ্যমে এবং সঠিক গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করে এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয় তার সঠিক দ্বায়িত্ব পালন করতে পারে।  ইউজিসি গবেষণার জন্য তহবিল বৃদ্ধি করেছে।

প্রতিবেদক:  বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
ইউজিসি সদস্য:  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে ইউজিসি কর্তৃক অভিন্ন নীতিমালা প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

প্রতিবেদক: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা মুখি করতে আপনাদের কি কি পরিকল্পনা রয়েছে।?
ইউজিসি সদস্য:  বেস্ট টিচার্স এবং বেস্ট রিসার্চ-এর ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদানের।মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষাদানের পরিবেশ নিশ্চিত হতে পারে। গুণগত শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে বেস্ট টিচার এর কোন বিকল্প নেই।  একইভাবে কোয়ালিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মনে করেন।  গবেষণা অবশ্যই হতে হবে এবং তা হতে হবে অবশ্যই এসডিজি লক্ষ্য নির্ধারণের সাথে সম্পৃক্ত।  তিনি উল্লেখ করেন গবেষণার জন্য তহবিল কোন সমস্যা নয়।

প্রতিবেদক: সম্প্রতি দু-একটি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ করেছে এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?  
ইউজিসি সদস্য:  বিদেশি শিক্ষকরা অবশ্যই প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উন্নত বিশ্বে বিদেশি শিক্ষক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। এজন্য ইউজিসির ফাণ্ড রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে বিদেশি শিক্ষকের নিয়োগের পরিমাণ জনক অবশ্যই বেশি সংখ্যক না হয়ে যায়। অস্থায়ী ভিত্তিতে ওমর শিক্ষকের ৫ থেকে ৬ শতাংশ বিশ্বায়নের এই যুগে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। ডাইভারসিফাইড এডুকেশন এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রতিবেদক: যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন শিক্ষা গ্রহণে অপারগ হয়েছে তাদের ব্যাপারে আপনাদের কি করনীয়? 
ইউজিসি সদস্য:  সরকার ঘোষিত টেলিটকের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সল্পমূল্যের নেট প্যাকেজ ব্যাবহার করে অনলাইন শিক্ষাগ্রহণে ছাত্রছাত্রীদের এগিয়ে আসা উচিৎ। 


প্রতিবেদক: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মানসম্মত গ্রাজুয়েট তৈরি করছে না- এজন্য কি সিলেবাস দায়ী  নাকি অন্য কিছু। 
ইউজিসি সদস্য:  মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে সিলেবাস না কারিকুলামে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দৃঢ় তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন কারিকুলাম কমিটিতে তিনজন বাহিনীর সদস্য অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে একজন হবেন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট, স্টক এক্সচেঞ্জের একজন মেম্বার এবং একজন। স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজ দায়িত্বে করতে হবে। আর এদের সমন্বয়ে তৈরী হতে পারে মানসম্মত গ্রাজুয়েট আধুনিক বিশ্বে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম হবে।শুধু শিক্ষকসর্বস্ব কারিকুলাম কমিটি কখনোই কাঙ্ক্ষিত কারিকুলাম তৈরিতে সমর্থ হবে না বলেও তিনি বিশ্বাস করে।

প্রতিবেদক: যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হবে তাদের ক্ষেত্রে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আপনি মনে করেন।  
ইউজিসি সদস্য:  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার ব্যাপারে ইউজিসি নীতিমালা মেনে চলতে আহ্বান জানান।


প্রতিবেদক: অভিযোগ রয়েছে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে এ ব্যাপারে আপনারা কি ব্যবস্থা  করবেন। 
ইউজিসি সদস্য:  টিউশন ফি'র অতিরিক্ত যে সমস্ত ফি নেওয়া হয় তা অবশ্যই যেন নীতিমালার ভিত্তিতে সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয় সে ব্যাপারে ইউজিসি  কাজ করছে।সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ডিজিটালাইজড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সিস্টেম  ও ডিজিটালাইজড এডুকেশন সিস্টেমের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরী করার ক্ষেত্রে ইউজিসি কি ভূমিকা পালন করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  ২০২১ সালের মধ্যে পুরো ব্যবস্থাই ডিজিটালাইজড হয়ে যাবে।এক্ষেত্রে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ও যে সমস্ত ব্যক্তিবর্গ এই ডিজিটাল পদ্ধতির সাথে নিজেদেরকে খাপ খাওয়াতে পারবেন না তারা পিছিয়ে পড়বেন। 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।