সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বছরে গড়ে ১৩ হাজার পুলিশকে বিভিন্ন অপরাধে শাস্তি দেওয়া হয়
পুলিশের অপরাধ থামছেই না
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়ায় বেপরোয়া পুলিশ : বিশেষজ্ঞতের অভিমত
হরলাল রায় সাগর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৮:০৭ পিএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২০ ১১:২০ এএম | অনলাইন সংস্করণ

পুলিশের অপরাধ থামছেই না

পুলিশের অপরাধ থামছেই না

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। শামলাপুর চেকপোস্টে গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটে এ ঘটনা। মাদক ব্যবসার প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের সাক্ষাৎকার নেওয়ায় সিনহার জীবনের কাল হয়। এঘটনায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও ওসি প্রদীপ দাসসহ পুলিশের ১২জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর থেকে ক্রসফায়ারে হত্যা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতসহ পুলিশের বিরুদ্ধে। এখন পর্যন্ত প্রদীপের চার কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এঘটনায় তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। চরম ইমেজ সংকটেও পড়েছে পুলিশ বাহিনী।

পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে থানায় এনে নির্যাতন করার অভিযোগে নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার সাবেক ওসি মিজানুর রহমানসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গত ১৭ সেপ্টেম্বর যুবলীগ নেতা ও বালু ব্যবসায়ী আলম তালুকদার বাদী হয়ে দ্রুত বিচার ২০১৯-এর ধারায় একটি মামলা করেন। তার অভিযোগ, ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় তাকে আটক করে থানায় নিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে পুলিশ। না দেওয়া তাকে নির্যান করে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। পরে জামিনে ছাড়া পান আলম।

বান্দরবন জেলা আদালতে কমরত এসআই আতিকুল আসলাম ও তার এক সহযোগীকে  ১১ হাজার চয়শ ইয়াবা ও নগদ পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকাসহ গত ১৭ জুন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ২৩ মার্চ ছুটিতে এসে আর কাজে যোগ দেননি তিনি।

২০১৮ সালের ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই আলম সরোয়ার্দীর বাসা থেকে ৪৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে থানা থেকে সরোয়ার্দীকে আটক করে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়। ওই বছরই সারাদেশে মাদক ব্যবসায় জড়িত ২৩১ পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করে পুলিশ সদর দপ্তর। 

ঢাকা মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ ৫ পুলিশের সদস্য ও সোর্স মোতালেবের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে। সোহেল মীর নামে এক কাপড় ব্যবসায়ীর পক্ষে আইনজীবী জাকির হোসেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে ১০ আগস্ট এই মামলা করেন। অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামলার বাদী সোহেলকে গত ২ আগস্ট কোতোয়ালি থানা এলাকার ওয়াজঘাটের মামলার আসামিরা গতিরোধ করেন। এরপর আসামিরা তার দেহ তল্লাশি করে পকেটে থাকা দুই হাজার নয়শ টাকা নিয়ে যায়। টাকা ফেরত চাইলে জিএমবি বানিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দেন এবং তার পকেটে ২১৪ ইয়াবা দিয়ে থানা হাজতে নিয়ে যায়। এরপর খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন থানায় এলে আসামিরা তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেলে তাকে জেএমবি ও মাদক মামলায় চালান করে দেবে বলে হুমকি দেন। এরপর পরিবার আসামিদের দুই লাখ টাকা দেন। পরদিন বাদীকে নন এফআইআর মূলে আদালতে চালান করেন। সেদিন থানা হাজত থেকে বাদী বের হওয়ার পর ঘটনা প্রকাশ করলে আসামিরা ক্রসফায়ারের হুমকি দেন বলে অভিযোগে বলা হয়। 

একটি দুটি নয়। এই দৃষ্টান্তের শেষ নেই। ঘটেই চলেছে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের অপরাধ। পুলিশের এ অপরাধ থামছেই না। অর্থ বাণিজ্য ও ক্ষমতার দম্ভে বেপরোয়া পুলিশের এক শ্রেণির সদস্য। পুলিশের এই অসাধু সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই চাঁদা দাবি, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া, আটকে রেখে টাকা আদায়, কথিত অভিযোগে ঘুষ দাবি করে হয়রানি, মাদক কারবারে সম্পৃক্ততা, জমি দখলে সহায়তা, অবৈধভাবে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা, অপহরণ, ছিনতাই, নির্যাতন, যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। আইজিপির কমপ্লেইন সেল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ পড়ছে। এমনকি আদালতে মামলাও হচ্ছে দেদার। এসব অভিযোগ বিশ্লেষণ করে এবং অভিযোগ গ্রহণের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মতে, এখন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, হুমকি, হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ আর্থিক অপরাধ বা দুর্নীতির অভিযোগ বেশি উঠছে। এসব অপরাধের বেশি শিকার হচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগত প্রতিপক্ষ। অভিযোগ বা মামলা করায় হুমকিও দেওয়া হয় ভুক্তভোগীদের। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরাই অপরাধে বেশি জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার নজির খুবই কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বেশিরভাগই শাস্তি শুধু বদলি, প্রত্যাহার বা সাময়িক বরখাস্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষায় এই শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 

একারণে নিত্য নতুন ফন্দি নিয়ে হাজির হয় দুর্নীতিপরায়ন পুলিশ সদস্যরা। আর এতে যোগান দিচ্ছে পুলিশের সোর্সরাও। পুলিশের কিছু সদস্যের বহুমুখী অপরাধের কারণে সুশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীও চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কখনও কখনও পড়ে ভাবমূর্তি সংকটে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুতর অপরাধ করেও পুলিশ সদস্যরা নামমাত্র শাস্তিতে রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন। এ কারণেই পুলিশে অপরাধ কমছে না। এমনকি অপকর্মে জড়িতরা প্রভাব খাটিয়ে বহালও থেকে যাচ্ছেন। তাদের  মতে, পুলিশ সদস্যদের আর্থিক অপরাধ বাহিনীর ভাবমূর্তিতে মারাত্মক খারাপ প্রভাব ফেলছে। অভিযোগের দায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে আইজিপি, কমিশনারসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের।

তবে অপরাধী পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অনেকেই বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়ছেন। সংখ্যার বিচারে এই শাস্তির সংখ্যাও কম নয়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নয় বছরে এক লাখ ২০ হাজার ১৯১টি ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই হিসাবে বছরে গড়ে ১৩ হাজার ৩৫৪টি ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে ১ শতাংশ সদস্যেরও চাকরি যায়নি।

২০১৯ সালে ১৫ হাজার ৪৬৯ পুলিশ সদস্যকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬৪১ জনকে লঘুদণ্ড ও ৭৫০জনকে গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর বরখাস্ত করা হয়েছে ৭৩ জনকে এবং ৫জনকে দেওয়া বাধ্যতামূলক অবসর। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অপরাধের দায়ে কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের শাস্তির হার বেশি। কিন্তু তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির নজির হাতে গোনা। 

পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি-১৮৬১) অনুযায়ী, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে লঘু ও গুরু -এই দুই ধরনের বিভাগীয় শাস্তির বিধান আছে। গুরুদণ্ডের আওতায় চাকরি থেকে বরখাস্ত, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিত, বেতন বৃদ্ধি স্থগিত ও বিভাগীয় মামলা হয়। মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত করা হয়। গুরুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে। ছোট অনিয়ম বা অপরাধের জন্য দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অপারেশনাল ইউনিট থেকে পুলিশ লাইনস বা রেঞ্জে সংযুক্ত করে লঘুদণ্ড দেওয়ার বিধান আছে।

২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সোয় ৩টা। রাজধানীর গুলশান-নাবিস্কো লিংক রোডের নাবিস্কো ট্রাফিক সিগন্যাল। মহাখালী থেকে আসা একটি প্রাইভেট কার নিয়ম লংঘন করে ইউটার্ন নেওয়ার চেষ্টা করলে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা আটকে দেয়। চালকের কাছে কাগজপত্র চাইলে পুলিশের হাতে কিছু একটা গুজে দেয়। ট্রাফিক পুলিশের ইশারায় গন্তব্যে ছোটে কারটি। 

যশোরের অভয়নগর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের আমির আলী গাজীর ছেলে আবুল কালাম ঢাকায় ব্যবসা করেন। তিনি নিজের বাড়িতে গেলে পাথালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই দেবাশীষ ও এএসআই কামরুজ্জামান ওই বাড়িতে গিয়ে বলে আসেন, ‘আবুল কালামকে বাড়িতে থাকতে হলে ওসি সাহেবকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে’। এরপর ভয়ে আবুল কালাম বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে যান। পরে পুলিশ আবার ওই বাড়িতে গিয়ে আবুল কালামকে না পেয়ে তার ভাই ইউসুফ আকাশকে আটক করে। ভয়ে আকাশের বাবা আমির আলী গাজি গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর থানায় গিয়ে ওসি তাজুলকে এক লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে আসেন। দাবিকৃত বাকি ৪ লাখ টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় পুলিশ ইউসুফ আকাশকে চাঁদাবাজির একটি পেন্ডিং মামলায় আদালতে চালান দেয়। আদালত জেলে পাঠান। এর মধ্যে আকাশ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। ৩০ জানুয়ারি ইউসুফ আকাশের স্ত্রী ফারজানা বাদী হয়ে পুলিশের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার মসজিদপাড়া মহল্লার বাসিন্দা হারুন মিয়া প্রতিবেশী হাসিনা বেগমের (চিকুনী বেগম) মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৬ মে রাতে আখাউড়া থানার এসআই মতিউর রহমানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তার বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে বাসা তছনছ করে এবং ঘরে থাকা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরের দিন ভোরে আবার ওই পুলিশ সদস্যরা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে যাবজ্জীবন কারাভোগ করানোর ভয় দেখিয়ে হারুন ও তার স্ত্রীকে আটক করে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তবে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তাড়া রক্ষা পান তারা। একথা ফাঁস না করার জন্য ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয় তাদের। এ ঘটনায় গত ১২ আগস্ট আখাউড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি মামরা করেন হারুন মিয়া। বিচারক জাহিদ হোসাইন মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

চাঁদা না পেয়ে ইয়াবার মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ও এক সোর্সসহ নয় পুলিশের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দীন মুরাদের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন আবদুল ওয়াহেদ নামে এক ভূমি মধ্যস্ততাকারী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে সিএমপির উওর জোনের উপকমিশনারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১৩ জুলাই রাতে মুরাদনগর জামাল কলোনীতে একটি বাসায় জায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য আরও তিনজনের সঙ্গে তিনি বসেছিলেন। তখন সাদা পোশাকে কিছু পুলিশ সদস্য সেখানে আসেন। ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে এসেছেন দাবি করে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায় এবং প্রত্যেকের কাছে দুই লাখ করে টাকা দাবি করেন। অন্যথায় তাদের ইয়াবা মামলায় চালান দিবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বায়েজিদ পুলিশ তাদের চারজন থেকে মোট ৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে একটি মাদক মামলায় আদালতে চালান দেয়। ২৩ দিন জেলে থাকার পর কিছুদিন আগে তারা জামিনে ছাড়া পান।

২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে ইরানি ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. সাদেকের ছেলে বিল্লালের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানে পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় সেখানে থাকা ইশতিয়াক হোসেন জনি ও তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকিকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে সুমনের সঙ্গে দুই ভাইয়ের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সুমনের ফোন পেয়ে পুলিশ এসে দুই ভাইকে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে দুই ভাইকে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে জনি মারা যায়। এ ঘটনায় ওই বছরের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে জনির ভাই রকি পল্লবী থানার ওসি জিয়াউর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর এ মামলার রায়ে পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমান, এএসআই রাশেদুল ইসলাম ও এএসআই কামরুজ্জামানকে  যাবজ্জীবন এবং সোর্স সুমন ও রাসেলকে ৭ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

গত বছর রাজধানীর ওয়ারীতে সম্পত্তি দখলে আট থেকে ১০ কোটি টাকার আর্থিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে ওয়ারী বিভাগের সাবেক ডিসি মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানের বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতিতে সহায়তার অভিযোগ ওঠে বংশাল থানার সাবেক ওসি সাহিদুর রহমান ও নবাবপুর ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধেও।

গত বছরের ৩ নভেম্বর এক শিল্পপতির পরিবারকে ৪০ লাখ টাকার জন্য হয়রানির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের তখনকার পুলিশ সুপার হারুন উর রশিদকে পুলিশ সদর দপ্তরে (ট্রেনিং রিজার্ভ) সংযুক্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি ডিএমপি তেজগাও বিভাগের ডিসি।

দ্বিতীয় বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে প্রভাব খাটিয়ে গ্রেফতার এবং এক সংবাদপাঠিকাকে যৌন হয়রানির ঘটনায় আলোচনায় আসেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। এরপর তার বিরুদ্ধে পুলিশে নিয়োগ, বদলি এবং মামলা দিয়ে হয়রানী করে বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। বিপুল অঙ্কের অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়ে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। অনুসন্ধানের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন মিজানের কাছ থেকে। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধানের দায়িত্বে ছিলেন কমিশনের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। তিনি অনুসন্ধান শেষে সম্প্রতি ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, অনুসন্ধানকালে পরিচালক এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে। মিজানের ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়ে মামলা করে দুদক। এরপর ডিআইজি মিজানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।