রোববার ২৫ অক্টোবর ২০২০ ১০ কার্তিক ১৪২৭

মনোহরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের মডেল মসজিদ নির্মাণ নিয়ে তেলেসমাতি কান্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৬:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মনোহরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের মডেল মসজিদ নির্মাণ নিয়ে তেলেসমাতি কান্ড

মনোহরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের মডেল মসজিদ নির্মাণ নিয়ে তেলেসমাতি কান্ড

বিশ বছরের পুরনো মসজিদ আছে। সেই মসজিদে পাচ ওয়াক্ত নামাজের মুসল্লি তেমন হয় না। কোনমতে দেড় কাতার মুসল্লি নামাজে অংশগ্রহণ করেন। অথচ ওই পুরনো মসজিদের মাত্র ৫০ গজের মধ্যে আর একটি মসজিদ নির্মাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি কুচক্রীমহল। কুমিল্লার জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার দিশাবন্দ গ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ প্রকল্পের এ মসজিদ নির্মানে চলছে তেলেসমাতি কাণ্ড।

দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র  নির্মাণের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে গত ২০১৯ সালের ১১নভেম্বর সম্পত্তি অধিগ্রহণের জন্য সম্পত্তির মালিক মো. আব্দুল মান্নান, গোলাম ফারুক ও নুরু মিয়াকে নোটিশ প্রদান করে অবহিত করা হয়। পরে সম্পত্তির মালিকগণ কুমিল্লা জেলা প্রশাসককে লিখিত আপত্তি জানান। এই সম্পত্তি তাদের তিন ভাইয়ের বসতবাড়ির জন্য নির্ধারিত। এমনকী মনোহরগঞ্জে বাড়ী করার মত তাদের আর কোন সম্পত্তি নাই।  ইতিপূর্বেও এই সম্পত্তিতে উপজেলা পশুসম্পদ অধিদপ্তর স্থাপনের জন্য ২০১৫ সালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক অধিগ্রহন করার জন্য নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশ প্রাপ্তির পর ভুমির উল্লেখিত মালিকগন জেলা প্রশাসক সমীপে আপত্তি পেশ করেন । তাদের আর্জি ও  আপত্তি শোনার পর সার্বিক দিক বিবেচনা করে বসতবাড়ীর জন্য নির্ধারিত ভূমি হিসাবে মানবিক বিবেচনায় জেলা প্রশাসক গত ২০১৫ সালের ৯ এপ্রিলে অবমুক্ত করার আদেশ দেন। এল এ ১৫/২০১৪-২০১৫ কেসের সম্পত্তিতে স্কুল বসত ঘর ও অন্যান্য স্থাপনাসহ বহু মুল্যবান গাছ লাগনো আছে এবং চর্তুরপাশ্বে ও সামনে রাস্তার পাশে পাকা দেয়াল করা আছে। উক্ত সম্পত্তিতে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট করে বসবাসের উপযুক্ত করা হয়েছে।  

অথচ, ওই কুচক্রীমহলের জোর প্রচেষ্টার ফল স্বরুপ ওই সম্পত্তি পূনরায় অধিগ্রহণ করার চিঠি দেওয়া হয়েছে।এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ প্রকল্পের এ মসজিদ নির্মানের সৎ উদ্দেশ্য আজ সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এল এ কেসের স্থান সমুহে একই সম্পত্তি আবদুল মান্নান গংদের দখলে ও মালিকানাধীন এক একর (১২০ শতাংশ) যা রাস্তার পাশ থেকে শুরু। আর অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব ৪৩ শতাংশ। অথচ অধিগ্রহণ চূড়ান্ত করার পূর্বেই উল্লেখিত সম্পত্তির মাঝখানে লাল নিশানা পোতানো হয়েছে। ৪৩ শতক জায়গা অধিগ্রহনের অজুহাতে গোটা জমিনটাই বসবাসের অযোগ্য করে দেওয়ার হীন প্রচেষ্টা চলছে যা মালিকদেরকে এলাকায় বাস্তুহারা করার সামিল। গত ১০ আগষ্ট পুনরায় অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত ও দখল গ্রহণ করার পত্র প্রেরণ করা হয়। পত্রে আবদুল মান্নান গংদের মালিকানাস্বত্ব লাভ করে থাকলে তার কাগজপত্র ও দলিল প্রর্দশন করে গত ৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন দপ্তরে উপস্থিত হতে বলেন। তারা উপস্থিত হলেও জেলা অধিগ্রহন কর্মকর্তার দেখা পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত সম্পত্তির মাত্র ৫০ গজের মধ্যে রাস্তার দক্ষিণপার্শে ৭৭০ দাগের ৮ শতাংশ জমির উপর ২০ বছরের পুরাতন পাকা ওয়াক্ফ মসজিদ আছে। ওই মসজিদের পাশে প্রায় ১০০ শতাংশ জমি খালি পড়ে আছে। ওই পুরাতন মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে দুই কাতার পূর্ন হয় না।  অথচ এর পাশেই আর একটি মসজিদ নির্মাণ কোন যুক্তিতে কোন উদ্দেশ্যে তা এলাকার সকল নাগরিকের কাছেই বড় প্রশ্ন। পুরাতন মসজিদকেই সংস্কার করে মডেল মসজিদ নির্মাণ করা যায়। 

এলাকাবাসী জানান, প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বিশেষ প্রকল্পের এ মসজিদ নির্মাণ খুবই ভালো উদ্যোগ। মানুষ মরণশীল কিন্তু তাঁর মহৎ কাজেই তাঁকে অমর করে রাখে হাজার বছর ধরে।কিন্তু কিছু রাজনৈতিক মানুষ তাদের হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য পুরনো মসজিদের ৫০ গজের মধ্যে আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করে প্রধানমন্ত্রীর মহৎ উদ্দেশ্য ও তার ভারমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।