শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০ আশ্বিন ১৪২৭

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি
রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৮:৫৪ পিএম আপডেট: ১৫.০৯.২০২০ ৩:৩৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের মারাত্মক আঘাত, দীর্ঘমেয়াদি বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি এবং ৬ মাস ধরে করোনা মহামারি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে তছনছ করে দিয়েছে। তার পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সরকারের নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপের ফলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতি। পাশাপাশি জনজীবনও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। বিশেষ করে কৃষি ক্ষেত্রের ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যাপক পরিকল্পনা ও প্রণোদনার ফলে খাদ্যশস্যে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় দেখা দেয়নি। তাছাড়া তৈরি পোশাকসহ রফতানি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বাতিলকৃত প্রায় সব ক্রয়াদেশই পুনরায় ফিরে পেয়েছেন গার্মেন্টস মালিকরা। বৈদেশিক বিনিয়োগসহ সহায়তার পরিমাণও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  

এসবের ইতিবাচক প্রতিফলনের প্রমাণ মেলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে। বিবিএসের হিসাবে করোনাভাইরাসের মধ্যেও গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪১ শতাংশ অর্জন হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের মাথাপিছু আয়ও দুই হাজার ডলার ছাড়িয়ে ২০৬৪ ডলারে উঠেছে।
অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, সম্প্রতি সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) গতি পেয়েছে। আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে এডিপি কার্যক্রমে তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। এতে রড, সিমেন্ট, ইট, বালুসহ নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে রফতানি আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি হয়েছে। সর্বশেষ আগস্ট মাসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি রফতানি আয় এসেছে বলে জানিয়েছে ইপিবি। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের ঋণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সর্বশেষ জুলাই মাসে বেসরকারি খাতের ঋণে আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৯ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, করোনার মধ্যে রেমিট্যান্স আসার ক্ষেত্রে রেকর্ড হয়েছে। করোনার মধ্যে আমদানি-রফতানি খাতও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, এই করোনাকালে সুবাতাস বইছে শেয়ারবাজারেও।

সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার পর গলির দোকান থেকে শুরু করে বড় শিল্পকারখানা- সবই এখন চালু হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি, উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবহন চলাচল আবার স্বাভাবিক হচ্ছে। স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকাও আবার ঘুরছে। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার আগের মতো সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে, সেটা বলা পুরোপুরি সঠিক হবে না। অর্থনীতি পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে প্রায় তিন মাস সাধারণ ছুটি থাকায় অফিস-আদালত, বিপণিবিতান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, পর্যটন ও পরিবহন বন্ধ ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ রয়েছে। এতে রিকশা ও অটোরিকশা চালক, গণপরিবহন শ্রমিক, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, হকার, চায়ের দোকানদারসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। অনেকে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে যান। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, পর্যটন, এমনকি বিভিন্ন উৎপাদন প্রতিষ্ঠানও কার্যক্রম বন্ধ করে কর্মীদের ছুটিতে পাঠায়। বৈশ্বিক যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় আমদানি-রপ্তানিও আশঙ্কাজনকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। শিল্পোৎপাদন কমে যায়। এতে কৃষি, শিল্প ও সেবা তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। মানুষের আয় কমে যায়। বাড়তে থাকে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য।

করোনা বিস্তার রোধে শিল্প, সেবা খাতে স্থবিরতা দেখা দিলেও দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি কৃষি খাতে তার বিশেষ প্রভাব পড়েনি। করোনাকালেও স্বাভাবিকভাবে চলেছে কৃষি খাতের কর্মকাণ্ড। প্রধান প্রধান ফসল, গবাদি পশু, মাছের উৎপাদন ও বিপণনে সমস্যা হয়নি। ফলে দেশের ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে যেমন কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিও ভেঙে পড়েনি। তবে ঘূর্ণিঝড় আম্পান, জুলাই-আগস্ট সময়ের অতিবৃষ্টি, পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা এবং নদীভাঙনের কারণে আউশ, আমন ধান, পাট, শাকসবজি, মসলা এবং গাছপালা ও পশুপাখির ক্ষতি হয়েছে। এরপরও কৃষি মন্ত্রণালয় আশা করছে, কৃষিপণ্যের উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে।

গত ৩ আগস্ট সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। মানুষ স্বাভাবিক সময়ের মতো ঘর থেকে বের হচ্ছে। কাজ করছে। রাজধানী ঢাকাসহ অন্য শহরগুলো আগের চেহারায় ফিরেছে। সড়কে যানজট দেখা যাচ্ছে। সেই আগের মতো দোকান বসছে ফুটপাতে। চায়ের স্টল, কফি শপ, হোটেল-রেস্তোরাঁ চালু হয়েছে। ভিড় বাড়ছে পর্যটন কেন্দ্রে। আমদানি করা নতুন পণ্য নিয়ে জাহাজ ভিড়ছে বন্দরে। আবার অনেক জাহাজ রপ্তানি পণ্য নিয়ে বন্দর ছেড়ে যাচ্ছে বিদেশে। ফলে অর্থনীতিও জেগে উঠছে।

অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তারা বলছেন, ভাইরাসের ভয়ে মানুষ আর ঘরে বসে নেই। জীবন থেমে থাকে না। সারাবিশ্বই ধীরে ধীরে কর্মমুখর হয়ে উঠছে। বাংলাদেশেও কর্মচঞ্চল হয়েছে অফিস-আদালত, শিল্পকারখানা। সর্ব ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়েছে। ফলে অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে। তবে ভাইরাসের টিকা সবার জন্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে বলে তারা মনে করেন।

করোনার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটনও জেগে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষ বেড়াতে যাচ্ছেন। সমুদ্রসৈকতে ভিড় জমছে। আবার জমজমাট হচ্ছে বিনোদনকেন্দ্রগুলো। হোটেল-মোটেলগুলোতে ফিরছেন অতিথিরা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন হচ্ছে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন লকডাউনে থেকে মানুষের মনে এক ধরনের অবসাদ দেখা দিয়েছিল। সবকিছু চালু হওয়ার পর মানুষ বেড়াতে বের হচ্ছেন। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। 

পরিবহন চালু হয়েছে পুরোদমে। রাজধানীতে আবার সেই ব্যস্ততা বা যানজট ফিরে এসেছে। এতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে। বিপিসি জানিয়েছে, বর্তমানে ১১ হাজার টন জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে দৈনিক। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তবে আয় বাড়েনি বিশেষ।

এদিকে, বাজারে মাস্ক, পিপিই, হ্যান্ডগ্লাভসের মতো স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জাম, ওষুধ, অক্সিজেন, অক্সিজেন মাপার যন্ত্র, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেলের বেচাকেনা বেড়েছে বেশ। আবার ইন্টারনেটের পেছনে মানুষের খরচ বেড়েছে, যা ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে সামান্য হলেও স্বস্তি দিয়েছে। অন্যদিকে করোনাভাইরাসের কারণে গত ছয় মাস ধরে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং সেন্টার পুরোপুরি বন্ধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ খাতের পরিবহন, শিক্ষা উপকরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন চাহিদার অন্যান্য পণ্যের ব্যবসাও তেমন একটা হচ্ছে না।

শিল্পকারখানাগুলো চালু হয়েছে। তৈরি পোশাক, স্টিল, রড, সিমেন্ট, চামড়া, পাট, আসবাবপত্র, সিরামিক, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, বেকারি পণ্যের কারখানা চলছে জোরেশোরে। দেশের বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী প্রাণ আরএফএল গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছেন। কাজ করছেন। দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন চলছে। ফলে বাজারে চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু যে গতিতে চাহিদা বাড়ার কথা ছিল তেমন বাড়েনি। তবে দুই বা তিন মাসের আগের তুলনায় অবশ্যই ভালো। ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার দিকে এগোচ্ছে অর্থনীতি। তবে পূর্ণ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

ক্যাপিটাল বিস্কুট কোম্পানির মালিক ও ঢাকা চেম্বারের সহসভাপতি মোহাম্মদ বশিরউদ্দীন বলেন, মার্চের পর থেকে খুবই সীমিতভাবে তিনি বেকারির উৎপাদন চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি চাহিদা কিছুটা বাড়ায় উৎপাদনও বাড়ানো হয়েছে। তবে পুরোদমে কাজ করা যাচ্ছে না।

যদিও অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর মনে করছেন, এই প্রবৃদ্ধির পেছনে ঋণ আদায় ও খেলাপি করার ক্ষেত্রে নীতিমালায় পরিবর্তন আনা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তার প্রভাব কাজ করেছে।

তবে বাজারে চাহিদার কারণে এনজিওগুলোর ঋণ বিতরণ বেড়েছে। এ সময়ে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে ৪৫৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্সের এই অর্থ অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা সৃষ্টি করছে।
গত সপ্তাহের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে তিনদিনই মূল্য সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এতেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবকটি মূল্য সূচক ৮ শতাংশ বেড়েছে। সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনও। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৫৫ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, অর্থনীতির সবক্ষেত্রেই ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু ভূমিকার কারণেও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের দুর্বল কোম্পানির অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে চায় বিএসইসির বর্তমান কমিশন। এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।