মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৬ আশ্বিন ১৪২৭

বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে কমিশন চাই
রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৯:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

রফিকুল ইসলাম রতন

রফিকুল ইসলাম রতন

‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট রেডিও স্টেশনে খন্দকার মোশতাক ও তিন বাহিনীর প্রধান সবাই অপেক্ষমান। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন মোশতাক। উপস্থিত সবাইকে ভাষণের একটি করে কপি দেওয়া হয়। তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ ভাষণের কপিটি পড়ে মোশতাকের সামনেই এর প্রশংসা করেন। জবাবে খন্দকার মোশতাক বলেন, আপনার কি মনে হয় এ ভাষণটি একদিনে লেখা হয়েছে?’ (প্রখ্যাত সাংবাদিক এএল খতিবের লেখা বই ‘হু কিল্ড মুজিব’)। খন্দকার মোশতাকের এই উক্তি থেকেই বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ঘটনাটি কিছু সেনা কর্মকর্তার উচ্ছৃঙ্খল আচরণের ফসল নয়। এটির শেকড় অনেক গভীরে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল ইতিহাসের এই নির্মম ও জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড।

শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণেও সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘খন্দকার মোশতাক আহমেদের কুমিল্লার দাউদকান্দির বাড়ি ও কুমিল্লা বার্ড থেকে এই ষড়যন্ত্রের শুরু। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড।’ রায়ে এ বিচারপতি বলেছেন, ‘ষড়যন্ত্রের অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই। বিশ^াস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকলেই হবে যে, কোনো ব্যক্তির কার্যক্রম, বিবৃতি ও লেখা অপরাধ সংগঠনের ষড়যন্ত্র করেছে। কোনো ব্যক্তি কথা বা কাজের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে যোগ দিতে পারে। সব ষড়যন্ত্রকারিকে অভিন্ন উদ্দেশ্যে একমত হতে হবে।’ আরেক বিচারপতি বলেছেন, ‘দণ্ডবিধি ৩৪ ধারায় অভিন্ন ইচ্ছার উপাদান হলো কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যে অপরাধমূলক কাজ করার জন্য কতিপয় ব্যক্তির মনের মিল।’

বিচারপতিদের উপরোক্ত মন্তব্য, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, খুনি ফারুক-রশিদের বিভিন্ন সময়ের আত্মাহঙ্কারের বক্তব্য, বিদেশি পত্রিকার সাক্ষাৎকার, কর্নেল রশিদ এবং ফারুকের লিখিত বই ‘মুক্তির পথ’, তৎকালীন স্টেশন কমান্ডার লে. কর্নেল এমএ হামিদের ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান-কিছু না বলা কথা’, মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য’, রক্ষীবাহিনীর উপ-প্রধান কর্নেল আনোয়ারুল আলম শহীদের ‘ রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা’, গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদের জাসদের উত্থান-পতন : অস্থির সময়ের রাজনীতিসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ডকুমেন্ট, গবেষণাধর্মী বই ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিংস এবং ঘটনার পূর্বাপর বিশ্লেষণেই এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, বঙ্গবন্ধুর হত্যার নেপথ্যের কুশীলবরা কারা ছিলেন।

আমরা যদি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করি, তবে এই হত্যা পরিকল্পনার অনেক কিছুই স্পষ্ট হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার জবানবন্দিতে লে. কর্নেল ফারুক বলেছেন, ‘সেনাবাহিনীর তৎকালীন ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জিয়াউর রহমান আমার বাসায় প্রায়ই হেঁটেই চলে আসতেন। তিনি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতেন। একদিন তিনি বললেন, ‘তোমরা শুধু ট্যাংকটুংক নিয়েই থাক, না দেশের কোনো খবরা খবর রাখ? আমি বলি, দেখতেছিতো দেশে অনেক উল্টা-সিধা কাজ চলছে। এক পর্যায়ে আমাকে তিনি ইন্সটিগেট করে বললেন, দেশবাঁচানোর জন্য একটা কিছু করা দরকার।’ এ নিয়ে মেজর রশীদের সঙ্গে দেশের অবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে আলাপ-আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে, একমাত্র শেখ মুজিবকে ক্যান্টমেন্টে এনে তাকে দিয়ে পরিবর্তন করা ছাড়া দেশের পরিবর্তন ঘটানো যাবে না। এ ব্যাপারে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করা সিদ্ধান্ত হয়। এপ্রিল মাসের এক রাতে তার বাসায় আমি যাই। নানা আলোচনার পর সাজেশন চাইলে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমি কী করতে পারি, তোমরা করতে পারলে কিছু কর। রশীদ পরে জিয়া ও খন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ও যোগাযোগ করেন। তারা পরামর্শ দেন যে, বাকশালের পতন ঘটাতে হবে এবং প্রয়োজনে শেখ মুজিবকে হত্যা করতে হবে। না হলে দেশ বাঁচবে না। যৌক্তিকভাবে আমি এ ধারণাকে সমর্থন করি। খন্দকার রশীদ জানায় যে, শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারলে জিয়াও আমাদের সমর্থন দেবেন।’

পরিকল্পনার অংশ শুধু এ পর্যন্তই নয়, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় লে. কর্নেল রশীদের স্ত্রী জোবায়দা রশীদ তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘মেজর ফারুক জেনারেল জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করত ছোটবেলা থেকেই। একদিন রাতে মেজর ফারুক জিয়ার বাসা থেকে ফিরে আমার স্বামীকে জানায় যে, সরকার পরিবর্তন হলে জিয়া প্রেসিডেন্ট হতে চায়। জিয়া নাকি বলেছেন, ‘ইফ ইট ইজ এ সাকসেস দেন কাম টু মি, ইফ ইট ইজ অ্যা ফেইলুর দেন ডু নট ইনভলব মি।’ জিয়া আরও বলেন, ‘শেখ মুজিবকে জীবিত রেখে কিছু সম্ভব নয়।’ এর কয়দিন পর মেজর ফারুক আমার বাসায় এসে রশীদকে বলে যে, জিয়া বলেছে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব খুঁজতে হবে, যিনি দায়িত্ব নিতে পারবে। সে মোতাবেক রশীদ তার আত্মীয় খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তিনি সম্মতি দেন।

এসব পরিকল্পনার আরও একটি প্রমাণ পাওয়া যায়, বঙ্গবন্ধু সরকারের তৎকালীন তথ্য ও বেতারের ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরের জবানবন্দিতে। তাহের উদ্দিন ঠাকুর বলেন, ১৯৭৫ সালের জুন মাসের প্রথম দিকে গাজীপুরের সালনা হাইস্কুলে মাহবুব আলম চাষীর নেতৃত্বে ঢাকা বিভাগীয় স্বনির্ভর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অনাহূত বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা উপস্থিত হন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক ওই সেনা কর্মকর্তাদের ডেকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমাদের আন্দোলনের অবস্থা কী? জবাবে তারা জানায়, বস (জিয়াউর রহমান) সব কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমরা তার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি।’ তিনি বলেন, এর পর আগস্ট মাসে বিগ্রেডিয়ার জিয়াউর রহমান খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে সচিবালয়ে গিয়ে দু’বার দেখা করেন। খন্দকার মোশতাক তাকে বলেন, জিয়া ও তার লোকেরা তাড়াতাড়ি কিছু একটা করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন।’ 

তাছাড়া খন্দকার মোশতাক আগস্ট মাসে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। সেখানে ফরুক-রশীদসহ বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা তার সঙ্গে দেখা করেন এবং তিনি তাদের তার আগামসিহ লেনের বাসায় দেখা করতে বলেন। এই বাসাতেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। 

ষড়যন্ত্রের এখানেই শেষ নয়। এক সময়ের বিএনপির নেতা ও অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের গুলশানের বাসায় তার উপস্থিতিতে তথাকথিত দাওয়াতের নামে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রশীদ, ফারুকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এই আলোচনাতেই সিদ্ধান্ত হয় যে, অভ্যুত্থান সফল হলে জিয়া প্রথমে হবেন সেনাপ্রধান এবং পরে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হবে।   

কর্নেল হামিদের বই থেকে আরও জানা যায়, সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর ডালিম ও মেজর নূর সেনা শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে নিয়মিত উপপ্রধান জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে ক্যান্টনমেন্টে যেতেন। জুনিয়ার অফিসার হয়েও কর্নেল রশিদ ও ফারুক প্রটোকল না মেনে যখন-তখন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করতেন। চাকরিচ্যুত হওয়ার পরও কেন তারা সেনানিবাসের টেনিস কোর্টে খেলতে যেতেন, এ কথা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, জিয়ার অনুমতি নিয়েই তারা এখানে এসেছেন।

তাই বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনের কুশীলব কারা ছিলেন, তা মোটামুটি চিহ্নিত। ওই সময় সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের কী ভূমিকা ছিল, কি করেছেন বুদ্ধিজীবীরা, রাজনীতিবিদদের ভূমিকাই বা কী ছিল, প্রশাসনের আমলারা রাতারাতি ভোল পাল্টে কীভাবে সেনাশাসকদের পদলেহন করতে শুরু করলÑ এসবই তদন্ত করে বের করে নিয়ে আসতে হবে। বিশেষ একটি কমিশন গঠন করে আইনের ভিত্তিতে জাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করাই হবে সবচেয়ে বড় কাজ। তা না হলে, ওইসব খুনির প্রেতাত্মা, যা এখনো রাজনীতি, প্রশাসন, সাংবাদিকতা, সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন তথা সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে, তারা আবারও বিষাক্ত ছোবল মারতে পারে। আবারও সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি, দেশের একমাত্র আশা-ভরসাস্থল শেখ হাসিনার হাত ধরে তর তর করে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া প্রিয় এই মাতৃভূমি বাংলাদেশের।

বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কারিগরদের চিহ্নিত করার জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের কথা গত কয়েক বছর ধরেই আমরা শুনে আসছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকসহ অনেকেই বলেছেন। গত বছরের ২৬ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এর বিচার যাতে না হয় এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল; কিন্তু এর বিচার হয়েছে। তবে আগামী প্রজন্ম জানতে চায়, কেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর হত্যার বিচারের জন্য কেন ২১ বছর দেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। কেন নেপথ্যের মানুষদের এখন পর্যন্ত বিচার হয়নি। এ জন্য অবশ্যই একটি কমিশন গঠিত হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত শোকের মাস, ষড়যন্ত্রের মাস আগস্ট শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা ছিল, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ আমরা পেয়েছি। আমরা সেই সুযোগ ছেড়ে দেব না। আমরা এই কমিশন ইনশাআল্লাহ গঠন করবই।’ মন্ত্রী বলেন, ‘কমিশন গঠন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। অনেকেই বলছেন যে এই কমিশনকে দিয়ে অন্যান্য যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেগুলোকেও তদন্ত করাতে হবে। আমি মনে করি, এই কমিশনকে শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের লোকজনকে চিহ্নিত করতে কাজ করার সুযোগ দেয়া উচিত।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়। এই ইমডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারির অর্থই হলো বঙ্গবন্ধু হত্যার কোনো বিচার করা যাবে না। তিনি বলেন, তাদের ষড়যন্ত্র, ২১ বছরের শাসন বাংলাদেশবিরোধী আদর্শ কতটা গভীরে গিয়েছিল, তা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা করতে গিয়ে আমরা দেখেছি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার পেতে হাইকোর্টেও বেগ পেতে হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের ৭ জন বিচারক এই মামলার আপিল শুনতে বিব্রত বোধ করেছেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তের সময়ই তাঁর জড়িত থাকার তথ্যটি পাওয়া গিয়েছিল; কিন্তু জিয়াউর রহমান তখন বেঁচে না থাকায় আইনানুযায়ী তাঁকে অভিযোগপত্রে আসামি হিসেবে দেখানো যায়নি। একই কারণে খন্দকার মোশতাককেও বাদ দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও ছিল। জিয়াউর রহমান সরকার গঠনের পর শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন। তিনি পাকিস্তানের দোসরদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। এতেই প্রমাণিত হয়, জিয়াউর রহমান আর যা–ই হোক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেননি। এসব কর্মকাণ্ড থেকে আমাদের বুঝে নিতে হবে যে সেদিন বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের ১৭ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য।

স্বাধীন বিচার কমিশন গঠনের কথা একাধিকবার বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও। ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত আলোচনা সভার শিরোনামও ছিল, ১৫ আগস্ট : নেপথ্যেও কুশীলবদের বিচারে কমিশন চাই। এ সভাতেও তথ্যমন্ত্রীসহ সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে কমিশন গঠনের জন্য জোর দাবি জানান। 

এখন আমরা বলতে চাই, আর দাবি নয়। আমরা দ্রুত কমিশন দেখতে চাই। দেখতে চাই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পেছনে জিয়া, মুশতাক ছাড়াও আর কারা কারা ছিলেন। জাতির সামনে আজ তাদের মুখোশ উন্মোচিত করে দিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন জঘন্য কাজ করার কথা চিন্তাও করতে না পারে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।