মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৬ আশ্বিন ১৪২৭

করোনার দিনগুলো কিভাবে কাটাচ্ছে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
বায়েজিদ হাসান,কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০, ১১:৫৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনার দিনগুলো কিভাবে কাটাচ্ছে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

করোনার দিনগুলো কিভাবে কাটাচ্ছে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

করোনাভাইরাস এক আতঙ্কের নাম। এই ভাইরাসের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ব। বাদ যায়নি বাংলাদেশও। বাংলাদেশের মানুষের আক্রান্ত হওয়ার মাত্রাও প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।দেশের এমন উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১৭ মার্চ থেকে ৩১ ই আগস্ট পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ধাপে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।ক্যাম্পাস কবে খুলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।এই কঠিন সময়ের মধ্যে করোনার দিনগুলো কিভাবে  কাটাচ্ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেই অনুভূতির কথাগুলো ব্যক্ত করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।তারই উত্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হয়েছে।

মোঃ ইবনুল হায়দার নাকিব
শিক্ষার্থী,মানব সম্পদ ব্যাবস্থাপনা বিভাগ
বর্তমান মহামারীর কারণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন বন্ধ, তখন এই অলস সময়টুকু কে কাজে লাগিয়ে নিজেকে প্রোডাকটিভ এবং দক্ষ  হিসেবে গড়ে তোলতে চেষ্টা করছি যেন মহামারী পরবর্তী সময়ে নিজেকে সময় এবং পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তাই অনলাইন থেকে বিভিন্ন কোর্স করছি যা আমাকে সবার থেকে একটু এগিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।নিজের ক্যারিয়ার  রিলেটেড পড়াশোনা,ব্যাক্তিগত দুর্বলতাগুলোকে দক্ষতায় পরিনত করা, বাড়ির আশে পাশে শখের বাগান করা এবং নিজের শারিরীক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো করেই আমার বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত হচ্ছে।

মৌ কর্মকার
শিক্ষার্থী, ফোকলোর বিভাগ
করোনার বিপর্যয়ের কারণ হলেও, বহুদিন পর এত বড় ছুটি পেয়েছি। আবার কখনো পাবো কিনা, তা জানা নেই। তাই অনেক শঙ্কার মধ্যেও সময়টুকু উপভোগ করার চেষ্টা করছি। একঘেয়েমি জীবন আর ভালো লাগছিল না। যে কারণে, খুব সকালে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাসটাও এই করোনার সময়েই করে ফেলেছি। বিভিন্ন কার্যক্রমে নিজেকে ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি আশেপাশের মানুষ গুলোকেও ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছি। কেননা অবসরের অলসতা অনেক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বায়েজিদ হাসান
শিক্ষার্থী,স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগ 
প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানো, বিশ্রাম আর হরেক রকমের খাবার তবুও অতিষ্ঠ লাগছে বন্দি জীবন। ফিরতে চাই আপন পরিসরে, বাঁচতে চাই নিজের মতো করে। আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে থাকা জায়গাগুলো ক্যাম্পাস,সানি ভবন,খেলার মাঠ,সেকেন্ড গেইট,সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ বার বার চোখে ভেসে উঠছে। বন্ধু বান্ধব, ভাই ব্রাদার্স নিয়ে বসতে চাই আবার চায়ের আড্ডায়।ছুটি বরাবরই আনন্দের হয়, কিন্তু এবারের ছুটিটা আকস্মিক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বন্ধু ছাড়া একঘেয়েমি সময় কাটছে।যদিও এখন সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ঘরে বসেই কাজ করছি সেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠনের সাথে। এবং নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলতে বিভিন্ন ধরনের অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছি এবং অনলাইনে কিছু কোর্স করছি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

মহসিনা সরকার
শিক্ষার্থী,পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ 
কোয়ারেন্টাইন এর শুরুর দিনগুলো একটু মন খারাপের ছিলো কেননা অনেকগুলো দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বসে বসে, পরে অবশ্য  অনলাইন ক্লাস শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে । এই অবসরে জমে থাকা কাজগুলো শুরু করেছি যেগুলি জমে ছিলো অনেক দিনের পুরনো হিসেবে। মূলত অনেক বই পড়া হচ্ছে এই ছুটিতে,  বিশেষ করে যেসব বড় আকারের বইগুলো লম্বা ছুটির জন্য জমিয়ে রাখতাম সেগুলো এখন সময় নিয়ে পড়তে পারছি। নিজের সফট স্কিল গুলি আরো ইমপ্রুভম করার চেষ্টা করছি। লিখা লিখিতে সময় দিচ্ছি, আমার নতুন কবিতার বইয়ের পান্ডুলিপির কাজ শুরু করেছি। পরিবারকে সময় দিচ্ছি এবং অনেক কিছু শিখেছি কিভাবে খারাপ সময়ে পরিবারের পাশে থাকা যায়। সব মিলিয়ে খারাপ বলা যায় না,  ভালোই যাচ্ছে আমার করোনা কাল।

নিশাত আনজুম 
শিক্ষার্থী,স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগ 
করোনা  কালীন এই সময়টার শুরুটা  যদিও কঠিন ছিলো , কিন্তু ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছি পরে। ঘরে বসেই কাজ করছি সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সাথে। বিভিন্ন ধরনের অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতায় করছি অংশগ্রহণ এবং অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কোর্স করছি বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে। পাশাপাশি সময় কাটছে বই পড়া এবং দেশ বিদেশের সিনেমা দেখে এবং পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করে।

শিকর
শিক্ষার্থী,আইন ও বিচার বিভাগ
বৈশ্বিক মহামারী করোনায় যখন পড়াশুনা, ক্লাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ, সতর্কতা অবলম্বনের দরুন বাসায় বন্দীজীবনে সবার দম বন্ধ বন্ধ অবস্থা ঠিক তখনই বাসায় ছোটখাটো কিছু একটা করার  পাশাপাশি,  নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তা জেগে উঠছে।ক্যাম্পাসজীবনে সচেতন ভোক্তা অধিকার সংগঠনে কাজ করার ফলে দেশের সচেতন জনগণের একজন হিসেবে দেশের সকল জনগণকে ভেজালমুক্ত ফল সরবরাহের চিন্তা মাথায় আসে।জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে নিজের এলাকা রংপুরের বিখ্যাত  'হাড়িভাঙা  আম' অনলাইনে 'আম সওদাগর' নামক ফেসবুক পেজ থেকে সারাদেশে সরবরাহ করেছি।বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি এবারই প্রথম দেশের ভোক্তাদের  মাঝে নিজেকে সরাসরি সংযুক্তির মাধ্যমে ভেজালমুক্ত, বিষমুক্ত ফল পৌছে দিতে পেরে  নিজেকেও অনেক ভাগ্যবান মনে করছি।সেইসাথে বাসায় ছোটখাটো ফার্মিং এ নিজেকে যুক্ত করছি।বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি ক্লাস বন্ধ থাকায় অনলাইনে অনেক কোর্সের ক্লাসও করছি পাশাপাশি।সবথেকে বড় কথা পরিবারকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।