বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

রাজধানীতে ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের ‘ন্যাচারাল ফুড ব্যাংক’
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২০, ৮:১৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীতে ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের ‘ন্যাচারাল ফুড ব্যাংক’

রাজধানীতে ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের ‘ন্যাচারাল ফুড ব্যাংক’

‘প্রাকৃতিক পণ্য, প্রাকৃতিক সেবায়-সুস্থ থাকি, ভালো থাকি।’ এ মূলমন্ত্র ধারণ করে ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের ‘ন্যাচারাল ফুড ব্যাংক’ এর যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে (বৈশাখে)। সেই থেকে আজ অবধি নিরাপদ আর প্রাকৃতিক খাদ্য পণ্যের পাশাপাশি প্রাকৃতিক চিকিৎসা পরামর্শও দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ আমতলায় অবস্থিত ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা হাকিম এবিএম রাসেল। তিনি বলেন, ‘আমাদের চালে পোকা দৌঁড়ায়, কারণ আমরা প্রাকৃতিক।’ কেমিক্যালযুক্ত ভেজাল খাদ্যপণ্যে যখন গোটা দেশ ছেঁয়ে গেছে ঠিক তখনই নিরাপদ আর প্রাকৃতিক খাদ্য সম্পর্কে এমন স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করি। তিনি বলেন, ‘ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার’ মূলত এটি একটি প্রাকৃতিক খাদ্য ভাণ্ডার। 

করোনাকালে মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার নিয়ে এসেছে  ইমিউনিটি ফুড প্যাকেজও। 
জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা হাকিম এবিএম রাসেল বলেন, এই ইমিউনিটি ফুড প্যাকেজে রয়েছে মধু ও আমলকি দিয়ে তৈরি আমলকির মধু গোল্লা;  মধু , কালো জিরার পাউডার, তেল, জায়ফল, গোলমরিচ দিয়ে তৈরি  ‘ইমিউনিটি  পাওয়ার জেল’; গরুর খাটি দুধ, কাজু বাদাম, কাঠ বাদাম, আখরোট, পেস্তা বাদাম,  খেজুর, জায়ফল, লবঙ্গ, গোলমরিচ, এলাচের গুড়া, ঘি দিয়ে তৈরি ‘ইমিউনিটি পাওয়ার মিঠাই’। 
সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অতিথি আপ্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। দর্শনার্থীদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ভেষজ উপাদানে তৈরি শাহী শরবত, আমলকির আচাড়, তেঁতুলের আচাড়, ভুট্টা ভাজা। কখনো কখনো বিভিন্ন দুর্লভ দেশি বনজ ফলেরও দেখা মেলে। এখানে রয়েছে মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র। যার দামও হাতের নাগালে।

প্রতিষ্ঠানটির এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম সম্পর্কে হাকিম এবিএম রাসেল শো রুমের একটি সাইনবোর্ডের দিকে ইশারা করেন। যেখানে লেখা রয়েছে ‘কৃত্রিমতাকে আঁকড়ে ধরে আমরা অনেকেই বেঁচে আছি। ফিরে তাকাই আমাদের পূর্বপুরুষের দিকে। তারা বেঁচে ছিল প্রকৃতির প্রাকৃতিক ছোঁয়ায়- প্রকৃতির ভালোবাসায়। ছিল না ক্যান্সার, হেপাটাইটিস বি, ডায়াবেটিসের মতো ভয়াবহতা। যা  ধীরে ধীরে মানুষকে নিঃশেষ করে ফেলে। বেঁচে থেকেও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নিতে হয় অনবরত। আমরা স্যালুট জানাই সেইসব পূর্বপুরুষদের-যারা নিজেরা মাঠে লাঙ্গল দিয়ে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলিয়ে খেতো। কাঠের ঘানিতে সরিষা ভাঙিয়ে ভোজ্যতেলের প্রয়োজন মেটাতে। নিম পাতার গুল্লি বানিয়ে রোগ নিরাময় করত। ত্রিফলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল নিবিড়। অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খেয়ে হার্টের সমস্যা দূর করত। আবারও তাদের স্যালুট জানাই। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা জানাই। ফিরে তাকানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তবুও ছোট্ট একটি চেষ্টা, ছোট্ট একটি প্রয়াস। যার নাম ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার।’

জানা গেছে, আদিকালের কাঠের ঘানিতে ভাঙানো দেশি সরিষার তেল যেমন এখানে পাওয়া যায়, তেমনি খাঁটি ঘি, মধু থেকে শুরু করে রসগোল্লা, দই, রসমালাই, খাঁটি আখের গুড় পর্যন্ত পাওয়া যায় ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে। রয়েছে দেশি মুড়ি-মুড়কি, খই, চিড়া, ঢেঁকি ছাঁটা চাল-যবের ছাতু, লাল গমের আটা, নারকেলের নাড়ু, তিলের নাড়ু, খেজুর গুড়ের খোরমা, চিড়া-মুড়ির মোয়া এসবের মতো নানা দেশি খাদ্য সামগ্রী। যার সবই খাটি এবং নিরাপদ। দেশের বিভিন্ন বাগানের চা মেলে এখানে। পাওয়া যায় গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা আম, কাঁঠাল, জাম, লিচুর মতো বিভিন্ন মৌসুমি ফল। শুধু তাই নয়, মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারে পাওয়া যায় ঔষধি গুণাগুণসম্পন্ন নানা ধরণের ভেষজ পণ্য ও ওষুধ। রয়েছে নিমসহ বিভিন্ন ধরনের খাঁটি তেল। এখানকার বিশেষ আকর্ষণ সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রকারের খাঁটি মধু, আমলকির রসগোল্লা, সয়া দুধ। রয়েছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের মিশ্রণে তৈরি কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান ‘কয়েস মাররা’।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।