শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০ ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

চরম অনিশ্চয়তায় হজ এজেন্সিগুলো
এম উমর ফারুক
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২০, ১১:৫০ পিএম আপডেট: ০৬.০৭.২০২০ ১২:১৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ

চরম অনিশ্চয়তায় হজ এজেন্সিগুলো

চরম অনিশ্চয়তায় হজ এজেন্সিগুলো

করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে সৌদির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো। আগামী হজ মৌসুম পর্যন্ত অফিস ও স্টাফদের খরচ বহন করে এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট মালিকরা। এ মৌসুমে হজ এজেন্সিগুলোর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন হাব নেতারা। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক হিসেবে জমা থাকা বিভিন্ন ফেরতযোগ্য টাকা এবং জামানতের কমপক্ষে অর্ধেক অংশ এজেন্সিগুলোকে ফেরত দেওয়ার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন-হাবের সভাপতি এম শাহাদত  হোসাইন তসলিম জানান, এ বছর হজ কার্যত্ৰমে অংশ। নিতে না পারায় দেশের এজেন্সি মালিকদের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষতি হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে, অনেকে অফিস চালাতে পারবেন না। আবার অনেক স্টাফ চাকরি হারাবেন। 
সূত্র মতে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর শুধু সৌদি আরবে বসবাসরতদের নিয়েই সীমিত আয়োজনে হজ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার। এতে প্রস্তুতি নিয়ে থাকা দেশের প্রায় ৬৫ হাজার হজযাত্রীর হজযাত্রা বন্ধ হয়ে গেছে। আর হজ ব্যবসায় জড়িত প্রায় দেড় হাজার বেসরকারি এজেন্সি ও পড়েছে চরম ক্ষতির মুখে। এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ওমরা কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব। এ পরিস্থিতির কবে উন্নতি হবে তা অনিশ্চিত। 

এ বিষয়ে হাবের যুগ্ম মহাসচিব ও আটাব নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, করোনার কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে ওমরা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকেই ট্রাভেল ও হজ এজেন্সিগুলোর সংকট শুরু হয়। সর্বশেষ হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারায় এ সংকট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এজেন্সি মালিকরা এখন পর্যন্ত স্টাফদের বেতন দিলেও চলতি মাস থেকে হয়ত তা সম্ভব হবে না। জুনের পর অনেক অফিস বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। স্টাফও ছাটাইয়ের শঙ্কা রয়েছে। আমাদের সামনে এখন অন্ধকার। 

সরকার সহযোগিতার হাত না বাড়ালে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো পথ নেই। ফজলুর রহমান জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে এজেন্সিগুলোর বেশ কিছু পাওনা আছে। বিগত ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হজযাত্রী। সংশ্লিষ্ট ফেরতযোগ্য অনেক টাকা মন্ত্রণালয়ের অ্যাকাউন্টে রয়ে গেছে। এসব টাকা ফেরত পেতে হাবের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনেক যোগাযোগ করা হলেও পাওয়া যায়নি। মরহুম ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহর সময়ে কিছুটা অগ্রগতি হলেও তার মৃত্যুতে আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রত্যেক এজেন্সির ২০ লাখ টাকা জামানত দেওয়া আছে। এর থেকে কমপক্ষে অর্ধেক টাকা ফেরত দিলেও এজেন্সিগুলো কিছুটা রক্ষা পেত। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে একটি হজ এজেন্সি মালিক এবং বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজীকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ড, আব্দুল্লাহ আল নাসের বলেন, হজ কার্যক্রমে জড়িত প্রায় দেড় হাজার এজেন্সি বহু ক্ষতির মুখে পড়েছে। কারণ এ অবস্থায় আমাদের কোনো আয় নেই। 

অথচ এজেন্সির প্রতি পাঁচজন করে স্টাফ থাকলেও তাদের গড়ে ১৫ হাজার টাকা করে বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে। আর গড়ে ৩০ হাজার টাকা করে অফিস ভাড়া দিতে হচ্ছে, যা বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 

তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে তাদের জামানতের ৫০ শতাংশ হিসেবে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। একইভাবে হজ এজেন্সিগুলোকে তাদের জামানতের ৫০ শতাংশ ১০ লাখ টাকা ফেরত দিলে অনেকটা উপকার হতো। অন্যথায় এজেন্সিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তীতে তার প্রভাব হজযাত্রীদের ওপরও পড়বে। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে তার সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন ড. নাসের।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।