বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০ ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭

সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটসহ নানা দূর্ভোগে বানভাসিরা
একদিকে করোনার থাবা তার উপর বন্যার ধাক্কায় মানুষ চরম বিপাকে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০, ৮:২২ পিএম আপডেট: ০৩.০৭.২০২০ ৮:৪৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটসহ নানা দূর্ভোগে বানভাসিরা

পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটসহ নানা দূর্ভোগে বানভাসিরা

ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে দেশের প্রধান নদীর পানি বাড়তে থাকায় বন্যার বিস্তৃতিও বাড়ছে। উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপুল মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একদিকে করোনাভাইরাসের কারণে টানা তিনমাস ঘরে বন্দি। তার উপর বন্যার ধাক্কায় মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। হাজার হাজার বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দি বহু মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি, গো-খাদ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যায় পড়েছেন বন্যা কবলিত এসব এলাকার মানুষ। অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গণমাধ্যমকে জানায়, নদীগুলোর ১০১টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের ৮৬টি পয়েন্টে পানি বেড়েছে। এরমধ্যে ১৪টি স্টেশনের পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিলেট, নেত্রকোণ ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। স্থিতিশীল থাকতে পারে লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বন্যা পরিস্থিতি ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় ও রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি  এবং দেশের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি  বৃষ্টিপাত হতে পারে।

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির তথ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গত সপ্তাহে ভারতে প্রচুর বৃষ্টি হয়। সেই পানি ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এছাড়া এ অঞ্চলের বৃষ্টির পানি যোগ হওয়ায় আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। “এতে নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।” তবে এ মুহূর্তে বন্যার কোনো  আশঙ্কা নেই  উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা সাময়িক। পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে।“

সরেজমিন দেখা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের দুধকুমার নদের পূর্ব পারে আলোরচর, চর রাউলিয়া, রসুলপুর, যাত্রাপুর ইউনিয়নের রলাকাটা, খাসের চর, গোয়ালপুরি, উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের আইরমারী, মশালের চর, নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের ব্যাপারীর চর, চর কাফনা, কালিগঞ্জ ইউনিয়নের কাঠগিরা, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুরের দুই শতাধিক ছোট-বড় চরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আধা পাকা বোরো ধানের ক্ষেত ডুবে যাচ্ছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে কোথাও এক বুক কোথাও কোমর পানিতে নেমে আধা পাকা ধান কাটছে।

রাউলিয়ার চলের মোশারফ হোসেন ছোট ডিংগি নৌকায় নিয়ে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “ধান কেবল পাকপার ধরছিল। ফলন খুব ভালো হইছিল। ডুবি গেইছে। এগলা ধান থাকি চাউল হবে না। চিটা হবে। কাটি নিয়া যাবার নাগছি গরুক খাওয়ামো।” এ রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়েছে এখানকার অনেক কৃষক।

ব্রক্ষপুত্র নদের অববাহিকায় চর গোয়ালপুর, রলাকাটা ও খাসের চরে গিয়ে দেখা যায়-ব্রক্ষপুত্র ভারত থেকে এ এলাকা দিয়ে প্রবেশ করেছে। নদ ফুলে-ফেপে উঠেছে।

গোয়ালপুরি চরের জেলে শাহ আলম স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “নদীতে মাছ মারি কোনো রকমে সংসার চালাই। দেড় বিঘা জমিতে বোরো ধান-২৯ লাগাইছি। ফলনও ভালো হছিল। “হঠাৎ পানি আসি সউগ ডুবে গেইছে।”
সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনও বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা শহরে বাড়িঘরে ওঠা পানি নামতে শুরু করেছে।    ধরলা, ব্রহ্মপূত্র, যমুনা, ঘাঘট ও সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হচ্ছে। 

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার বন্যা পরিস্থিতি-

কুড়িগ্রাম : ধরলা ও ব্রহ্মপূত্র নদের পানি হু-হু করে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ১৬টি নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫০টির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, বন্যায় ১ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। তবে বেসরকারিভাবে নিমজ্জিত বা ক্ষতির পরিমাণ ৩ হাজার হেক্টর বলে সংশ্লিষ্ট কৃষক ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে জানা গেছে। মৎস বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ না জানালেও ইতিমধ্যে শতাধিক পুকুর প্লাবিত হওয়ায় খবর পাওয়া গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছচাষিরা।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন হাজার বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব বসতবাড়ির প্রায় ১৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষ ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু তারা বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যার পড়েছেন। এদিকে ঘাঘট নদীর পানির চাপে শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।

বন্যা কবলিত ইউনিয়নগুলো হচ্ছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা, হরিপুর, তারাপুর, কাপাসিয়া, গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি, মোল্লারচর, ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি, এরেন্ডাবাড়ি, কঞ্চিপাড়া, উদাখালী, গজারিয়া, ফজলুপুর, উড়িয়া, এবং সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা ও হলদিয়া।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, জেলার ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অন্যদিকে ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং পানি বৃদ্ধি এ ধারা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, ফুলছড়ি ইউনিয়নের বাজে ফুলছড়ি নামাপাড়া, পশ্চিম কালুরপাড়া, পেপুলিয়া, গাবগাছি, পূর্ব টেংরাকান্দি, খোলাবাড়ি, দেলুয়াবাড়ি, জামিরা, বাগবাড়ি, খঞ্চাপাড়া গ্রামের অন্তত ৫শ পরিবার ও এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের সন্ন্যাসীর চর, মাগরীঘাট, পশ্চিম জিগাবাড়ী, বুলবুলি, পাগলারচরসহ কয়েকটি গ্রামের এক হাজার এবং কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর, খলাইহারা, পূর্ব কঞ্চিপাড়া, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, কালাসোনা, উত্তর উড়িয়া, উদাখালী ইউনিয়নের পূর্ব সিংড়িয়া, গজারিয়া ইউনিয়নের গলনা, জিয়াডাঙা, ফজলুপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাটিয়ামারী, কাউয়াবাধা, উজালডাঙা, কৃষ্ণমনি গ্রামের দুই হাজার পরিবারের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে।

জামালপুর : উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। যমুনা ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বাড়ছে দ্রুত গতিতে। জেলার ২০টি ইউনিয়নের ১ লাখ ২১ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। বন্যায় দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলায় ১১২টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি ঢুকেছে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদেও। পানি ছড়িয়ে পড়ছে নিম্মাঞ্চলে। ডুবে গেছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট। 

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজপাঠক আব্দুল মান্নান স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

“ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ বসতবাড়ি ছেড়ে ছুটছেন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে উচু বাঁধ, সড়ক, সেতুর উপর।”

মান্নান জানান, গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের ভাঙা অংশ দিয়ে দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ছে। রাস্তা ডুবে যাওয়ায় বন্যা কবলিত ইউনিয়নগুলোর সাথে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

ইসলামপুরের দেওয়ানপাড়ার হযরত আলী স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “পানি বাড়ছে হু হু করে। ২৪ ঘণ্টা আগে পানি উঠানে ছিল। এখন পানি ঘরের ভেতর। অবশেষে বসতবাড়ি ছেড়ে তিনি আশ্রয়ের সন্ধ্যানে বের হন।” 

চিনাডুলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “চিনাডুলি ইউনিয়নে নিন্মাঞ্চলের বেশীরভাগ এলাকা বন্যায় প্লাবিত। এসব এলাকার অন্তত আট হাজার মানুষ পানিবন্দি। বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জ : ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। যমুনার নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৯টা থেকে বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিরাজগঞ্জের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম। এছাড়া সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পয়েন্টেও বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পানি বৃদ্ধির ফলে বাঁধের অভ্যন্তরে থাকা নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। আগাম বন্যার পানি আসায় কৃষকদের কাউন, তিল, পাটসহ আবাদি জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশের বীজতলা। 

সুনামগঞ্জ : সুরমা নদীর পানি আগের চেয়ে কমলেও বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কমেনি মানুষের দুর্ভোগ। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ শহরের অনেক এলাকা থেকে কিছুটা পানি নেমেছে।

শহরের আরপিননগর এলাকার রুজেল আহমদ স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “আমাদের এলাকার মূল সড়ক উপছে সুরমা নদীর পানি বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছিল। সন্ধ্যায় অনেকের বাড়িঘর থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। দ্রুত পানি না নামলে আমাদের দুর্ভোগ শেষ হবে না।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, রোববার সকালে সুরমা পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সন্ধ্যায় কমে ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যায় জেলায় ৪৪ হাজার ৪১০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। আটটি উপজেলায় আমরা ৭৮টি  আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছি। যেকোনো সমস্যা সমাধান ও সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।”

এ দিকে অসময়ের ঢলে হতভম্ভ হয়ে পড়া কৃষকরা আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়াও দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতির পূর্বাভাস তুলে ধরে বর্ষা-বন্যার এ মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে কৃষি 

সম্প্রসারণ অধিদপ্তর :

>> জমি থেকে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করতে হবে;
>> জলাবদ্ধতা পরিহারে বীজতলার চারপাশে নিষ্কাশন নালা তৈরি করতে হবে;
>> দণ্ডয়মান ফসলকে বন্যা ও অতিবৃষ্টির ক্ষতি থেকে রক্ষায় আইল উঁচু করতে হবে;
>> উঁচু জায়গায় সমবায়ভিত্তিক আমন বীজতলা তৈরি করা যেতে পারে;
>> সেচ, সার, বালাইনাশক দেওয়া এবং চারা রোপণ থেকে বিরত থাকতে হবে;
>> দ্রুত পাকা সবজি ও ফসল সংগ্রহ করে নিরাপদ ও শুকনো জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে;
>> পাকা ভুট্টা দ্রুত সংগ্রহ করতে হবে;
>> কলা, আখ, অন্যান্য সবজির খুঁটি-ঝাড় বেঁধে দিতে হবে;
>> জরুরি খাদ্য ও অন্যান সামগ্রঅ নিচু জায়গা থেকে উঁচু জায়গায় নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে হবে;
>> গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগিকে উঁচু জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে;
>>ভারি বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে যেন পুকুরের মাছ ভেসে না যায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।