শনিবার ৪ জুলাই ২০২০ ২০ আষাঢ় ১৪২৭

করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান
খায়রুল আলম
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০, ৬:৫৮ পিএম আপডেট: ২৬.০৬.২০২০ ৮:১৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্যোগের সময়ই মনুষ্যত্বের পরীক্ষা হয়। এখনই সময় পরস্পরকে সহায়তা করার; মানবতা প্রদর্শনের। আর এই আহবানে সাড়া দিয়ে পরস্পরকে সহায়তা এবং মানবিক মানুষ হিসেবে দেশের জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যরা। 

‘সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে’- এই স্লোগানে উদ্দীপ্ত এই সেনা সদস্যরা। করোনা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ পেশাদারী মনোবৃত্তির অধিকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভিন্ন এক মানবিক পরিচয় দেখছে আজ দেশবাসী।

করোনার বিরুদ্ধে চলতি লড়াইয়ে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটছে দুর্যোগ মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। 

এ কাজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মূল প্রেরণা হিসেবে পথ দেখাচ্ছে। এ জন্যই করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যে দায়িত্ব দিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে এবং করে যাবে বলে জেনারেল আজিজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সে কথা জনগণকে জানিয়েছেন।
করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

সেনা সদস্যরা সারা দেশেই করোনাভাইরাস সম্পর্কিত জনসচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন। প্রত্যন্ত এলাকায় উপস্থিত হয়ে যাদের হোম কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে থাকার কথা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। সামাজিক দূরত্ব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে মাঠে-ঘাটে সার্বক্ষণিক তদারকিতে আছেন। 

সাধারণ জনগোষ্ঠীকে মাইকিং করে নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিবিধ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানাচ্ছেন। কোনো এলাকায় রোগে আক্রান্তদের যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানে যেমন সহযোগিতার হস্ত প্রসারিত করে দিয়েছেন তেমনি পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য তাদের তরফ থেকে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সেনাবাহিনী কেবল আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে দৃষ্টি দেননি তারা স্থানীয় প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। যেমন দুস্থদের ত্রাণ কাজে অব্যবস্থাপনা দূর করার জন্য সহযোগিতা করছেন তেমনি কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে কিংবা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলে তা ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার করে শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে। 

চরাঞ্চল কিংবা পাহাড়ি উপত্যকায় বাজার চালু রাখা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, গরিবদের মধ্যে খাবার বিতরণে সহায়তা করা, বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অসত্য তথ্য যাতে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার কাজও তাদের করতে হচ্ছে।

এর আগে আমরা মনে করতাম সশস্ত্র বাহিনী জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে, তাদের কাজ যুদ্ধের মাঠে, শান্তি স্থাপনের জন্য কঠোর হস্তে বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং বন্দুক উঁচিয়ে সবসময় জনগণকে শাসন করা। 

কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, সেনাবাহিনী ২৪ মার্চ থেকে গ্রামে-গঞ্জে, মাঠে-বাজারে মাইকিং করছেন জনগণকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করার জন্য, সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরিয়ে সাহায্য করছেন। অস্ত্র উঁচিয়ে যুদ্ধের ময়দানে নয় বরং নিজের জীবন বাজি রেখে অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে মানুষের জীবন বাঁচাতে দায়িত্ব পালন করছেন।
করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ২৪ মার্চ থেকে দিনরাত কাজ করছেন। এর আগে গত ১২ এপ্রিল করোনা মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনারেল আজিজ আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, ‘আমরা সৈনিক, আমরা সবসময় যুদ্ধ করতে প্রস্তুত এবং সেই প্রস্তুতি নিয়ে আমরা আছি। সবাইকে সহযোগিতা করব।’ সেদিন করোনাযুদ্ধে জয়ী হতে তিনি ১৬ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন।

ওই নির্দেশনার আলোকে দেশজুড়ে অধিকতর তৎপরতায় ঝাঁপিয়ে পড়েন সদস্যরা। এখন পর্যন্ত দেশের সকল জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যায়েও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে কাজ করে যাচ্ছেন সেনাবাহিনীর প্রায় ৮ হাজার সদস্য। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে লকডাউন কার্যকর এবং ত্রাণ সহায়তা প্রদানেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

জেনারেল আজিজ সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে যে ১৬ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন সেগুলো হলো- ‘১. আপনারা সবাই অবগত আছেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলাকে একটি যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। একজন সৈনিক হিসেবে আমরা অকুণ্ঠচিত্তে এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। এই যুদ্ধে আমরা জয়ী হবই- ইনশাআল্লাহ্। 

২. জনগণকে যথাযথভাবে সচেতন করাই এখন আমাদের প্রধান কাজ। আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে সকলকে ঘরে থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করব। ধৈর্য, সহনশীলতা ও সৎ সাহসের পরিচয় দিয়ে জনগণের পাশে থেকে আমরা জনগণের আস্থা অর্জন করব। 

৩. আমরা বেসামরিক প্রশাসনের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের সাথে যথাযথ সমন্বয় সাধনপূর্বক বিচক্ষণতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করব। ৪. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সকল বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই গুরু দায়িত্ব পালন করব এবং সকলের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখব। 

৫. আমরা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এ জাতীয় কোনো কাজ, কথা ও আচরণ করবো না। শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করব না। ৬. আমরা আমাদের ‘চেইন অব কমান্ড’ মেনে চলব এবং নেতৃত্বের প্রতি সর্বাবস্থায় আস্থাভাজন থাকব। 
করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

৭. আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় দেব। আমরা কোনো গুজবে কান দেব না এবং জনগণকে গুজব পরিহার করার জন্য উদ্বুদ্ধ করব। কোনো অপশক্তি যেন করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গুজব ছড়াতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখব। ৮. আমরা সর্বাবস্থায় শৃঙ্খলা মেনে চলব। চলমান পরিস্থিতিতে সর্বাবস্থায় শৃঙ্খলাবহির্ভূত সকল কাজ হতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখব। 

৯. আমরা আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন ও সর্বদা সজাগ থাকব। দায়িত্বরত অবস্থায় সর্বদা মাস্ক, গ্লাভস পরা থাকব। অযথা কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে যাব না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কর্তৃত্ব প্রদত্ত সকল স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মেনে চলব। ১০. আমরা নিজেরা আতঙ্কিত হব না। দায়িত্ব পালনকালীন আমাদের কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করব। 

১১. চলমান করোনাযুদ্ধে সিএমএইচসহ মেডিকেল কোরের সকল সদস্যগণ প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আপনাদের এই সেবা এবং ত্যাগ, দেশ ও সেনাবাহিনী শ্রদ্ধাভরে স্মরণে রাখবে। আমরা সবসময় আনাদের পাশে আছি। ১২. আমরা দায়িত্ব পালনকালীন মানবতা ও সহানুভূতি বজায় রাখব। প্রয়োজনে কঠোর হব। কিন্তু তা অশালীন, দৃষ্টিকটু বা মানবতাবিরোধী হলে চলবে না। 

১৩. আমরা আমাদের দায়িত্ব কোনো অবহেলা বা শিথিলতা প্রদর্শন করব না। আমাদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মনোভাব দেখিয়া জনগণকে সচেতন করে অর্পিত দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকব। ১৪. আমরা নিজ নিজ ধর্ম পালন করব। তবে ধর্মীয় উপাসনালয়ে না যেয়ে। রুমের মধ্যে একাকী পালন করব। 

১৫. আমরা নিজেদের মধ্যেও সর্বদা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখব যাতে করে আমরা সুস্থ থেকে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারি। ১৬. সর্বোপরি আমরা আমাদের পরিবার পরিজনদের যথাযথ খোঁজ-খবর রাখব। তাদের সাবধান থাকতে বলার পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করার মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করব।’

এই ১৬ দফা নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করার বিষয়টি ত্বরান্বিত করার জন্য জেনারেল আজিজ পুনরায় আরও কিছু পরামর্শ দেন তার অফিসারদের। ৬ মে তিনি সেনাবাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিংদের (জিওসি) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সেসব নির্দেশনা প্রদান করেন। 
করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

সেনাপ্রধান ওই সময় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তার নির্দেশনা বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।’সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের প্রতিটি সদস্যের জন্য বরাদ্দ করা রেশন থেকে অসহায়, দুস্থ ও গরিবদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন সেনাপ্রধান। এছাড়া তিনি অসুস্থ, গরিব রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া অব্যাহত রাখার নির্দেশনাও দেন।

করোনায় মানুষের দুর্দশা ও অসহায়ত্ব বদলে দিয়েছে জীবনের পথ ও দৃষ্টিভঙ্গি। সেনাসদস্যদের দূরদর্শিতা, অঙ্গীকার ও দেশপ্রেম স্বীকৃত। দীপ্ত সাহসে বলীয়ান সেনাবাহিনী এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নেতৃত্বে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে উজ্জীবিত যেন স্বাধীনতার আলোক মশালের প্রভা ও দীপ্তিতে। অকুতোভয় সেনারা বাঙালি জাতিকে শোনাচ্ছেন সাহসের বাণী। শুদ্ধ, সাহসী ও নির্লোভ এই সেনাবাহিনী বিপদে ও সংকটে পথ দেখাচ্ছেন, স্পর্শ দিচ্ছেন সাহসের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়ার ফলে জনমনে স্বস্তি হবার প্রধান কারণ হলো- প্রথমত, জনগণ মনে করে যে সেনাবাহিনী কারো প্রতি অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না; বরং নিয়ম-নীতি অনুযায়ী নির্মোহভাবে কাজ করে। 

দ্বিতীয়ত, সিভিল প্রশাসন বা অন্য বাহিনীর লোকজনের নির্দেশনা সাধারণ মানুষরা শুনতে চায়না, নির্দেশ অমান্য করতে চায়। কিন্তু সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে সাধারণত তেমনটি করেনা। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সুন্দর ইমেজ রয়েছে যে, তারা সৎ-নির্ভীক এবং দেশপ্রেমিক। তাই তাদের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা আর বিশ্বাস বেশি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সেনা কল্যাণ সংস্থার ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নির্দেশক্রমে এবং সেনা কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সাজ্জাদুল হকের নেতৃত্বে সংস্থাটি শুরু থেকেই সরকার ও জনগণের পাশে দাঁড়ায় এবং অতি দ্রুততার সঙ্গে সংস্থার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর এক দিনের বেতনসহ ৫ কোটি ১০ লক্ষাধিক টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করে। 

এছাড়া আশকোনা হজ ক্যাম্পের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বিভিন্ন ব্যবহার্য সরঞ্জামসহ ১৫০ সজ্জা প্রদান ও স্থাপন করে দেয়। করোনাভাইরাসের প্রকোপে সেনা কল্যাণ সংস্থার বিভিন্ন কলকারখানা বন্ধ হয়ে পড়লে কর্মহীন শ্রমিকদের মধ্যেও নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ করছে সংস্থাটি।

সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক অভিনব প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হলো, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জীবাণুনাশক টানেল এবং কন্টাক্ট ট্র্যাকিং পোস্ট স্থাপন। ৭ মে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং খুলনার ডিসির উপস্থিতিতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিত ডিসইনফেক্টিং টানেল শহরের শের এ বাংলা রোডে উদ্বোধন করা হয়। 

মহামারি মোকাবিলায় গত তিন মাস থেকে সরকারের সঙ্গে ফ্রন্টলাইনে আছেন সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ। মানবতার টানে অতীতের সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতোই নির্ভীকচিত্তে খুলনা বিভাগের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মাগুরা, যশোর, খুলনা এবং ঝিনাইদহে এই ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা হয়েছে। 
করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

করোনাকালে সেনাবাহিনী ও একজন সেনাপ্রধান

শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সকল ব্যক্তি, মোটরসাইকেল, সাইকেল, ভ্যান-রিকশা এই ট্যানেলের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। স্থাপনকৃত টানেলের ভেতরে দিনের একটি বড় সময় ধরে জীবাণুনাশক ডিটার্জেন্ট স্প্রে করা হচ্ছে। জীবাণুমুক্ত করতে পানির সঙ্গে মানুষের ব্যবহার উপযোগী ডিটারজেন্ট ও ক্ষার জাতীয় মেডিসিন ব্যবহার করা হয় এ ট্যানেলে। এর ফলে সকল ধরনের যানবাহন এবং মানুষের শরীরে লেগে থাকা জীবাণু নষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে।

এছাড়াও সেনানিবাসের মেডিকেল টিম দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছেন। যশোর সেনানিবাসের মেডিকেল টিম চলতি মাসে মাগুরায় প্রবেশদ্বারে স্থাপনকৃত কন্টাক্ট ট্র্যাকিং পোস্ট অতিক্রম করার সময় প্রতিটি মানুষকে স্বাস্থ্য ক্যাম্পে নিয়ে শরীরের তাপমাত্রাসহ করোনার নানা উপসর্গ পরীক্ষা করছেন। 

এছাড়া বিভিন্ন সেনানিবাসের মেডিকেল টিম অসহায় মানুষদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ ছাড়াও গণপরিবহন চলাচল, ত্রাণ বিতরণ, অসহায় কৃষকদের ক্ষেত থেকে সবজি ক্রয় এবং দুস্থ কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার শস্য/সবজি বীজ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

গত ১৮ জুন চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংকটের (কোভিড-১৯ মহামারি) বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। 

ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী করোনাযুদ্ধে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে সারাদেশে বিভিন্ন জনমুখী ও বাস্তবধর্মী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনার কঠিন বাস্তবতায় উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন আম্ফান।

ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনে নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্দশা। রমজান মাসে রোজা ও ঈদের দিনও পরিবার-পরিজন ফেলে দেশ মাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করে সেনা সদস্যরা। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যে দায়িত্ব দেবে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি তার অভিমত ব্যক্ত করেন। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সেনাবাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

এদিকে ২৫ জুন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সেনাবাহিনীর সকল পদবীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানসহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। 

সেনাবাহিনী প্রধান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবেলায় যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরা সৈনিক এবং এই যুদ্ধে আমরা সর্বোতভাবে নিয়োজিত থেকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ ও জনগণের কল্যানে আত্ন নিবেদন করছি।

দেশের এই ক্রান্তিকালে সেনাবাহিনীকে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগের সুযোগ প্রদানের জন্য সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

লেখক : যুগ্ম সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।