শনিবার ৪ জুলাই ২০২০ ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

গোয়ালন্দে ওসিকে ফোন করে যুবকের আত্মহত্যা!
শহিদুল ইসলাম, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০, ৬:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

গোয়ালন্দে ওসিকে ফোন করে যুবকের আত্মহত্যা!

গোয়ালন্দে ওসিকে ফোন করে যুবকের আত্মহত্যা!

স্যার, আমি আত্মহত্যা করছি। আমার লাশটা আপনি এসে নিয়ে যান। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসিকে ফোন করে এ কথা বলে পাপন সাহা নামের এক যুবক নিজ হাতে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ স্পর্শে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ২৫ জুন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরশহর এলাকায়। 

পুলিশ, মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকার মৃত অশোক কুমার সাহার ছেলে পাপন সাহা (২৪)। তিনি গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশন এলাকায় একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে স্টিলের ফার্নিচার তৈরী ও বিক্রির কাজ করতেন। গত কয়েক দিন আগে পাপন তাঁর নিজ বাড়ির বসত ঘরের চালা মেরামত করেন। মেরামতকালে ঘরের পিছনদিকে টিনের ছাউনির কিছু অংশ থানা প্রাচীরের (বাউন্ডারি) ভিতরে চলে যায়। এই অপরাধে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে পাপন সাহাকে আটক করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। তখন থেকে তাকে থানাহাজতের ভিতরে আাটকে রাখা হয়। সরাদিন সেখানে আটক থাকার পর ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে থানায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায় পাপন। সেখান থেকে সরাসরি নিজ বাড়িতে গিয়ে গোসল করার পর মায়ের হাতে সে দুপুরের খাবার খায়। পরে বাড়ি থেকে একা বের হয়ে নিজ দোকানে যায় পাপন। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সেখান থেকে পাপন তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসিকে কল করে বলেন, ‘স্যার, আমি আত্মহত্যা করছি। আমার লাশটা আপনি এসে নিয়ে যান।’ এ কথা বলেই পাপন তাঁর ডান হাতে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে নিজেই তাতে সংযোগ ঘটনায়। এ সময় বিদ্যুৎ স্পর্শে সে গুরুতর আহত হয়। এদিকে পাপনের ওই ফোন কল পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান এলাকার কয়েক জনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর আহত অবস্থায় পাপনকে উদ্ধার করে  গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিদ্যুৎস্পর্শে আহত পাপন সাহাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ পৌরশহরের স্থানীয় কাউন্সিলর কোমল কুমার সাহা বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পর্শে পাপন সাহার আত্মহত্যার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।’

ওসিকে ফোনে জানিয়ে যুবকের আত্মহত্যা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘বসতঘরের ছাউনি নির্মানে অবৈধ উপায়ে থানার জায়গা দখল প্রচেষ্টার অপরাধে পাপন সাহাকে আটক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে থানা থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’  

এদিকে একমাত্র ছেলে পাপনকে হারিয়ে তাঁর মা পুষ্প সাহা এখন পাগলপ্রায়। তিনি বলেন, ‘থানা থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে এসে আমার পাপন বারবার শুধু একই কথা বলছিলো, ‘পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে সারাদিন হাজতে আটকে রেখেছিলো। এখন সবার সামনে আমি মুখ দেখাবো কেমনে?’ তবে, থানাহাজতে আটকে রাখার অপমান সইতে না পেরে তার ছেলে পাপন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে তিনি জানান।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।