সোমবার ৬ জুলাই ২০২০ ২২ আষাঢ় ১৪২৭

ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০, ১০:৪৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ

ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে ব্যাংক

ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে ব্যাংক


করোনা দুর্যোগে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা ও সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনায় প্রতিটি ব্যাংকের আয় ৩০-৪০ শতাংশ কমে গেছে। এ অবস্থায় অর্থনীতিতে অর্থ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকায় থাকা এ খাতটি ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে। কয়েকটি ব্যাংক এরই মধ্যে কর্মীদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংক কর্মী ছাঁটাইয়ের চেষ্টা করছে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন কর্মীরা। সে কারণে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও এরই মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের স্বার্থে কর্মীদের উজ্জীবিত রাখার জন্য দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংক মালিকরা তাঁদের সুবিধা নেওয়া বন্ধ না করে কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ব্যাংকিং খাতের সংকট আরো বাড়বে।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা মহামারিতে অন্যান্য খাতের মতো ব্যাংকিং খাতও সংকটে পড়েছে, এ কথা ঠিক। তবে আমি বলব, ব্যয় সংকোচনের জন্য কর্মীদের বেতন-ভাতা কমানো বা ছাঁটাই করা কোনো সমাধান না। মানবিক কারণে হলেও এই মুহূর্তে এগুলো না করাই ভালো। এর পরিবর্তে অন্যভাবে পরিচালন ব্যয় কমানো যেতে পারে। ব্যাংকের মালিকরা কম ডিভিডেন্ট নিতে পারেন। সম্মানী নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।’

এ ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করা এবং অন্য উপায়ে ব্যয় সংকোচনের পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

ব্যাংকগুলোর মূল আয় আসে ঋণের সুদ থেকে। এর বাইরে সার্ভিস চার্জ ও কমিশন থেকে কিছু আয় হয়।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে সব ধরনের ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর সুদ আয় প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। করোনার কারণে বিদ্যমান ঋণের কিস্তি আদায়ও হচ্ছে না। নতুন ঋণ বিতরণ ও আমদানি-রপ্তানি ব্যবসাও কমেছে। এতে সার্ভিস চার্জ ও কমিশন আয় কমে গেছে। কিন্তু ব্যয় আগের মতোই আছে। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে ব্যাংকগুলো। এরই মধ্যে চার-পাঁচটি ব্যাংক কর্মীদের বেতন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা জুলাই মাস থেকে কার্যকর হবে।

করোনার সংকট থেকে উত্তরণে আগামী দেড় বছরের জন্য ১৫ শতাংশ বেতন-ভাতা কমানোর সুপারিশসহ ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়ে গত ১৫ জুন বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয় বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএবির ওই চিঠির পর কয়েকটি ব্যাংক তাদের কর্মকর্তাদের বেতন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বিএবির নির্দেশনার আগেই একটি বেসরকারি ব্যাংক তাদের কর্মীদের বেতন কমানোর ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই ব্যাংকপাড়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া চলছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি এখনই কর্মীদের বেতন কমানো বা ছাঁটাইয়ের সময় আসেনি। এতে কর্মীদের কর্মস্পৃহা কমে যেতে পারে। তখন স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।’ তিনি আরো বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানে অনেক ধরনের ব্যয় আছে। আগে সেগুলো কতটা কমানো যায় সেটা বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার।

কিছু ব্যাংকের মালিকও মনে করেন করোনাসংকট মোকাবেলায় কর্মীদের বেতন কমানো সমাধান হতে পারে না। বরং অন্য পরিচালন ব্যয় কমিয়ে এই সংকট মোকাবেলা করা যেতে পারে। সে অনুযায়ী কয়েকটি ব্যাংক বেতন না কমানোর ঘোষণাও দিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের অনেকেই বলছেন, খেলাপি ঋণ, পরিচালকদের নামে-বেনামে নেওয়া ঋণ আদায় ও পরিচালকদের বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সুবিধা বন্ধ করা গেলে ব্যাংকগুলো কিছুটা চাপমুক্ত হবে। তখন কর্মী ছাঁটাই বা বেতন কমানোর প্রয়োজন হবে না।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।