বৃহস্পতিবার ৪ মার্চ ২০২১ ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

অধ্যাপক মোয়াররফ হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

অধ্যাপক ডা. মোয়াররফ হোসেনের চরম শাস্তি হওয়া উচিত। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি একদিকে যেমন স্বার্থপর, তেমনি রোগী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গেও চরম দুর্ব্যবহার। তিনি যতদিন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ছিলেন, ততদিন তিনি ছিলেন স্বেচ্ছাচার এবং গণবিমুখ। তার সঙ্গে দেখা করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যেমন সাধারণ রোগীরা দেখা করতে পারতেন না, তেমনি কোনো রোগীর বা রোগীর লোকজনের সঙ্গেও তিনি ভালো ব্যবহার করতেন না। এ ধরনের স্বার্থপর, দুর্নীতির অভিযোগে বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত একজন গণবিমুখ ডাক্তারকে কেমন করে ক্যান্সার হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক করা হয়েছিল, সেটাই প্রশ্ন অনেকের কাছে।
আর এ জন্যই গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে রুলনিশি জারি করেছেন এবং তার অবসরকালীন পেনশনের সুযোগ-সুবিধা স্থগিত করেছেন। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদেশে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
এবার এই ডাক্তার সাহেবের দায়িত্বের চরম অবহেলার জন্য স্বয়ং হাইকোর্ট তার অবসরকালীন পেনশন সুবিধা আটকে দিয়েছেন। না, এ যেনতেন দায়িত্ব অবহেলা নয়। প্রায় ১২ বছর আগে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য ৮টি অত্যাধুনিক আর্টিফিসিয়াল রেসপিরেটরি ভেন্টিলেটর (এআরডি) মেশিন কেনা হয়েছিল। আইসিইউর জন্য অতি প্রয়োজনীয় যন্ত্রগুলোর প্রত্যেকটির দাম ৭০ লাখ টাকা করে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, পরিচালক সাহেবের গাফিলতি ও দায়িত্ব অবহেলার জন্য এই মহামূল্যবান যন্ত্রগুলো ব্যবহার তো দূরের কথা বাক্স থেকে খোলাই হয়নি। আইসিইউ কক্ষের এক কোণে অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। ফলে এই ক্যান্সার হাসপাতালের আইসিইউতে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেই। শুধু তাই নয়, অক্সিজেন সরবরাহের জন্য হাসপাতালটিতে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা তিন বছর আগে চালু হলেও ভেন্টিলেটরগুলো এখন পর্যন্ত বসানো হয়নি। সুযোগ বুঝে ভেন্টিলেটরগুলোর মাদারবোর্ড চুরি হয়ে গেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলো পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে ওই পরিচালক সাহেবকে রাখা হয়েছিল কেন? কি তার দায়িত্ব ছিল? চোরাই সিন্ডিকেট বা হাসপাতালকে অচল করে রাখার রাষ্ট্রবিরোধী চক্রের হয়েই কি তিনি এতদিন পুরো দস্তুর আমলা বনে গিয়ে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন? 
অধ্যাপক ডা. মোয়াররফ হোসেন কেমন পরিচালক এবং কী তার ব্যবহার তার জ্বলন্ত উদাহরণ এখানে উল্লেখ করা হলোÑ ক্যান্সার হাসপাতালে একজন রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ফোন করে, ভিজিটিং কার্ড দিয়ে চিঠি লিখে পাঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। এই চিঠি নিয়ে অধ্যাপক ডা. মোয়াররফ হোসেনের কাছে যান একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও একটি জাতীয় পত্রিকার সম্পাদক। ওই রোগী ছিলেন এই সাংবাদিকের বড় ভাই এবং প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান।  ভিজিটিং কার্ড দিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সাংবাদিককে ভেতরে ডাকার পর অধ্যাপক ডা. মোয়াররফ হোসেন রোগীর বিষয়ে কোনো কথা না শুনে বলেন, কোনো কাগজ এনেছেন? সাংবাদিক ভদ্রলোক বলার চেষ্টা করেন, এখানে একটি পরীক্ষা করাতে চান তারা। কিন্তু পরিচালক কোনো কথায় কান না দিয়ে তিনি তার সামনে উপস্থিত একজন নারী ও একজন পুরুষ ভন্দ্রলোকের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। সাংবাদিক ভদ্রলোক এ সময় বঙ্গবন্ধুর ভিসির ভিজিটিং কার্ড দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন; কিন্তু কোনো কথা শুনতে রাজি নন পরিচালক। প্রায় মিনিটখানেক এভাবে কেটে যাওয়ার পর পরিচালক একটি ছোট্ট ম্লিপ কাগজে আরএমওর নাম লিখে তার কাছে যাওয়ার জন্য বলেন। সাংবাদিক ভদ্রলোক আবারও চেষ্টা করেন, রোগীর বিশেষ একটি পরীক্ষা করানোর বিষয়টি বলতে। কিন্তু এবার অধ্যাপক মোয়াররফ বেশ কর্কষ স্বরেই বলে ওঠেন, আপনাকে যেতে বলেছি, আপনি এখান থেকে চলে যান। এই হলো ক্যান্সার হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোয়াররফ হোসেনের আচরণ ও ব্যবহার।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ভিজিটিং কার্ডসহ চিঠি নিয়ে একটি পত্রিকার সম্পাদক যাওয়ার পরও যদি অধ্যাপক মোয়াররফ অমন দুর্ব্যবহার করেন, তাহলে সাধারণ গরিব অসহায় রোগী বা তাদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তিনি কী ধরনের ব্যবহার করেছেন বা তার দ্বারা রোগীরা কি ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।
হাসপাতালের শত শত রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনদের দাবি চরম স্বার্থপর, রোগীর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারকারী ও দায়িত্বে অবহেলাকারী অধ্যাপক ডা. মোয়াররফ হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করে পরিচালকের দায়িত্বকালীন সময়ে সমস্ত দুর্নীতি, অবহেলা ও দুর্ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ চিত্র খুঁজে বের করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং প্রচলিত আইনে বিচার করা হোক।
 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।